পারিশ্রমিক কমাচ্ছেন তারকারা

মহামারী করোনার হানায় বিপর্যস্থ শোবিজ দুনিয়া। কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রি। কাজের পরিমাণ বাড়াতে এরইমধ্যে নিজেদের পারিশ্রমিক কমাতে রাজি হয়েছেন বলিউড ও দক্ষিণী তারকারা।

এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছেন টলিউড তারকারা।

গত সাত মাস সিনেমা হল বন্ধ থাকায় ছবি মুক্তি পায়নি, ফলে প্রযোজকের টাকা আটকে ছিল। বলিউড ওটিটি-তে ছবি ছেড়ে কিছু টাকা ঘরে তুলতে পেরেছে। টলিউডের সে ভাঁড়ারও ভরেনি। তাই প্রযোজকের পকেটে টান পড়া আশ্চর্যের কিছু নয়। অতএব টান পড়েছে বাজেটেও। এসব ক্ষেত্রে প্রথম কোপটা সাধারণত অভিনেতাদের উপরে পড়ে। কারণ একটা বড় অংশের বাজেট এঁদের পিছনেই ধার্য করা হয়। বলিউডে শহিদ কাপুর, বরুণ ধাওয়ানেরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে, তারা পারিশ্রমিক কমাতে রাজি। টলিউডেরও অনেক অভিনেতা এতে সায় দিচ্ছেন। তবে চিন্তাও রয়েছে, কারণ একবার কম টাকায় রাজি হলে, সেটা যেন চলতেই না থাকে!

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কাজ বন্ধ রাখলে চলবে না। তার জন্য যদি খানিকটা আপস করতে হয়, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে সেটা করা উচিত। ‘পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গে বলিউডের সঙ্গে আমাদের তুলনা করা উচিত নয়। তবে এখানেও বড় তারকাদের পারিশ্রমিক বেশি। সেই টাকার খানিকটা অংশ কমিয়ে, তা যদি অন্য কোনও খাতে খরচ করা হয়, তাতে আপত্তির কিছু দেখছি না। এটা সাময়িক পরিস্থিতি। তবে প্রযোজকদেরও মাথায় রাখতে হবে, এখানে কোনও তারকাই বিরাট অঙ্কের পারিশ্রমিক পান না। তাই বাজেট তৈরির সময়ে সব দিক বজায় রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে,’ বক্তব্য প্রসেনজিতের।

পারিশ্রমিক কমানোর ব্যাপারে সায় দিচ্ছেন দেবও। তার কথায়, ‘কাজ বন্ধ থাকার সময়ে আমার অফিসের কর্মীদের টাকা কমাতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন আমাকে কেউ পারিশ্রমিক কমাতে বললে রাজি হতে হবে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অনেক কিছু মেনে নিতে হবে।’

অতিমারি পরিস্থিতিতেই পরপর দু’টি ছবির শুটিং করলেন মিমি চক্রবর্তী। তার মতে, ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানোর কাজটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বলছিলেন, ‘টাকার অঙ্ক কমাতে আপত্তি নেই। কিন্তু তার পাশাপাশি এটাও ভাবতে হবে, তারকাদেরও টাকার প্রয়োজন আছে। তাদেরও সংসার চালাতে হয়। তাই সব দিক ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

নুসরাত জাহান যেমন এর মধ্যে দু’টি ছবির শুটিং করেছেন। সেখানে আগের তুলনায় পারিশ্রমিক অনেকটাই কম নিয়েছেন নায়িকা। নভেম্বর মাসে নতুন ছবি ‘তীরন্দাজ শবর’-এর শুটিং করতে চলেছেন অরিন্দম শীল। জানালেন, ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন বাজেট কাটের কোনও অনুরোধ রাখেনি।