ভারত থেকে যে বীজ আমদানি করে ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র তৈরি করছে চীন!

ভারত থেকে আমদানি করা রাইসিন (কাস্টর) বীজ দিয়েই রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করছে চীন। এরকমই বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের।

উল্লেখ্য, সেই রাইসিন বাংলাদেশে ভেন্না নামে পরিচিত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠিতেও মারাত্মক এই রাইসিন বিষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভেন্না বা ক্যাস্টর উৎপাদক দেশ হল ভারত। ভেন্না বীজে তেল বা ক্যাস্টর অয়েলের উৎপাদন বিক্রি বেশি ভারতেই। কিন্তু এই বীজ খুব বিষাক্ত। জৈব আবর্জনা হিসাবে তা বিবেচিত হয়। মাত্র দু-একটি রোগের চিকিৎসার জন্য ভেন্নার বীজের গুঁড়া বা পাউডার সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ছোট্ট এক চামচ এই বীজের পাউডার পানিতে গুলিয়ে খাইয়ে দিলে পূর্ণবয়স্ক মানুষের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। গত কয়েক মাস ধরে চীন সরকারিভাবে বিপুল পরিমাণে ভেন্না বীজ ভারত থেকে আমদানি করছে। এজন্য ভেন্না বীজের অর্ডার পাচ্ছে ভারতের বিভিন্ন সংস্থা।

ভারতীয় গোয়েন্দাদের ও উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, ভেন্না বীজে রয়েছে রাইসিন নামের এক মারাত্মক বিষ ও যৌগ। এই রাইসিন নামের যৌগটি নিষিদ্ধ ও ধ্বংসাত্মক রায়াসনিক মারণাস্ত্র তৈরিতে বা রায়াসনিক গ্যাস তৈরিতে ব্যবহার হয়। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির নিজস্ব গবেষণাগারে তৈরি হচ্ছে এই রায়াসনিক অস্ত্র ও গ্যাস।

সরাসরি যুদ্ধের রাস্তার না গিয়ে ভারত, তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, জাপান, আমেরিকার মতো শত্রুদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র গোপনে ব্যবহার করার ছক কষছে চীন। সেজন্যই ভেন্না বীজ আমদানি করা হচ্ছে ভারত থেকে।

এই ঘটনার জেরে সর্বভারতীয় বণিক সংগঠন ‘সলভেন্ট এক্সট্রাকটর অসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’র সভাপতি অতুল চতুর্বেদী দেশটির কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি লিখে আবেদন জানিয়েছেন, “এখনই ভেন্না বীজ চীনে রফতানি করা বন্ধ করা হোক। না হলে বিপদে পড়ব আমরাই। রফতানি বন্ধ হলে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হবে ঠিকই। কিন্তু বড় বিপদ বা ফাঁদ থেকে রক্ষা পেতে পারি আমরা।”

ভারতীয় গোয়েন্দাদের মতে, নিশ্চিত খবরের ভিত্তিতেই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ভেন্না বীজ আমদানি করা নিয়ে চীনের এত আগ্রহ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক ছিল। জৈব রায়াসনিক মারণাস্ত্র তৈরিতে তা কাজে লাগাচ্ছে চীন।

অতীতে আশির দশকে ইরাক ও ইরানের মধ্যে আট বছর ধরে চলা যুদ্ধের সময় ইরানের সেনাদের বিরুদ্ধে মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করেছিল ইরাক। সরিষার বীজ থেকে তৈরি রায়াসনিক মাস্টার্ড গ্যাসে চোখ, মুখ ও গায়ে বড় বড় ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল ইরানি সেনাদের। অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ইরানের সেনারা।

সেরকমই চীনও জৈব মারণাস্ত্র বানাতেই ভেন্না বীজ আমদানি করছে। তাছাড়া মার্কিন গোয়েন্দারাও দাবি করেছেন, চীন গোপনে বায়ো টক্সিনস্ এলিমেন্টের স্টকপাইল বা জৈব বিষের সঞ্চয় বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা মারাত্মক। সূত্র: স্বরাজ্যম্যাগ, ফিন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস, সংবাদ প্রতিদিন