ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মার্লন স্যামুয়েলস

ঠাণ্ডা মাথার খুনি বললেও ভুল হবে না মার্লন স্যামুয়েলসকে। একের পর এক বাউন্ডারি, ওভার-বাউন্ডারি হাঁকালেও যার মুখে হাসি দেখা যেত না সহজে।

২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ধীর গতির ব্যাটিং শুরুর পর যেটা করে দেখিয়েছিলেন সেটা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা মনে রাখবে যুগের পর যুগ। ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৪ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বসে উইন্ডিজরা। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে স্যামুয়েলসের মন্থর ব্যাটিং ভাবিয়ে তুলছিল ক্যারিবীয়দের। ১০ ওভার শেষ, দলীয় রান যখন ২ উইকেটে ৩২ তখন স্যামুয়েলসের রান ৩২ বলে ২০!

এরপর মুহূর্তেই পাল্টে গেলেন স্যামুয়েলস। লাসিথ মালিঙ্গার বলে একের পর এক ছয় হাঁকিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলেন ৫৬ বলে ৭৮ রানের ইনিংস। ৬ ছক্কার ৫টিই মালিঙ্গাকে মেরেছিলেন স্যামুয়েলস। দল পায় ৬ উইকেটে ১৩৭ রান।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও বাজিমাৎ তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রানে দিয়ে নেন ১ উইকেট। শ্রীলঙ্কা অল-আউট হয়ে যায় ১০১ রানে। বিশ্বকাপটা যায় উইন্ডিজদের ঘরে।

২০১৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে বেন স্টোকসের করা শেষ ওভারে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের টানা চারটি ছয়ের দৃশ্য দেখলেও জয়ের আসল নায়ক ছিলেন এই স্যামুয়েলস। ৬৬ বলে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ইংলিশদের দমিয়ে দেন তিনি। ভীষণ হেয়ালি আর বদ মেজাজি স্যামুয়েলসই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সের হয়েছেন।

সেই স্যামুয়েলস বিদায় জানিয়ে দিলেন ক্রিকেটকে। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন স্যামুয়েলসের অবসরের খবরটি।

ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে দারুণ জনপ্রিয় ছিলেন স্যামুয়েলস। বেশ কয়েকটা আসরে খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল)। এমনকি তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটাও ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ মেরুন জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন।

২১ বছর বয়েসে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া স্যামুয়েলস ভারতের বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনে খেলেছিলেন শতরানের ইনিংস। অ-ধারাবাহিক টেস্ট ক্যারিয়ারে ৭১ ম্যাচে ৩২.৬৪ গড়ে করেন ৩ হাজার ৯১৭ রান। ২০৭ ওয়ানডেতে আছে ৫ হাজার ৬০৬ রান, ৬৭টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে রয়েছে ১ হাজার ৬১১ রান।

x