কনকনে শীতে শরীরে ৭ দিন কাদা মেখে ছিলেন জায়েদ খান

কনকনে শীতে ৭ দিন শরীরে কাদা মেখে থাকতে হয়েছিল জায়েদ খানকে। নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি কাদা মাখা ছবি পোস্ট করে এমনটাই লিখেছেন ঢাকাই চিত্রনায়ক জায়েদ খান।

ছবিটির নিচে প্রচুর প্রতিক্রিয়া এসেছে। ভক্ত ও সমালোচকরা মন্তব্য করেও জানিয়েছেন তাঁদের প্রতিক্রিয়া। জানা গেছে, ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’ ছবির সময় জায়েদকে এমন কষ্ট স্বীকার করতে হয়েছে। এই ছবিতে জায়েদের বিপরীতে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়িকা মম।

‘প্রেম করবো তোমার সাথে’ ছবিতে জায়েদ খানকে কয়েদখানায় আটকে রাখা হয়। এখানে তিনি একের পর এক অন্যায় দেখেন, যখন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা নিজ চোখে দেখেন, তখন তাঁকে বানিয়ে দেওয়া হয় পাগল। হাসপাতালে নিয়ে বানানো হয় মানসিক রোগী। পরে জায়েদ খান সুস্থ হন এবং কাদা মেখে অন্যরূপ ধারণ করে শত্রুদের নিধন করেন।

চিত্রনায়ক জায়েদ খান এই মুহূর্তে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে খ্যাতনামা নির্মাতা মহম্মদ হান্‌নানের হাত ধরে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। তাঁর পরিচালিত ভালোবাসা ভালোবাসা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়।

যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেন রিয়াজ ও শাবনূর। পরের বছর মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কাজের মানুষ’ ও মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘মন ছুঁয়েছে মন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে মুক্তি পায় তাঁর অভিনীত এফ আই মানিক পরিচালিত ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’ এবং মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘মায়ের চোখ’ ও ‘রিকশাওয়ালার ছেলে’।

২০১২ সালে জায়েদ খান শাবনূরের বিপরীতে প্রধান অভিনেতা হিসেবে ‘আত্মগোপন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যা পরিচালনা করেন এম এম সরকার। ২০১৪ সালে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো হলো মাশরুর পারভেজ ও আকিব পারভেজের যৌথ পরিচালনার ‘অদৃশ্য শত্রু’, রকিবুল আলম রকিবের ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’, আজাদ খানের ‘দাবাং’, মনতাজুর রহমান আকবরের ‘মাই নেম ইজ সিমি’ এবং রাজু চৌধুরীর ‘তোকে ভালোবাসতেই হবে’। ২০১৫ সালে তিনি শাহ্‌ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। একই বছর তিনি রকিবুল আলম রকিব পরিচালিত ‘নগর মাস্তান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন পরীমণি।

২০১৭ সালে তিনি ‘অন্তরজ্বালা’ নামের চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন, যা তাঁর প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মালেক আফসারী, যেখানে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন পরীমণি।

জায়েদ খান সোশ্যাল হ্যান্ডেলে যে ছবি পোস্ট করেছেন, সেখানে আসাদুজ্জামান নামের একজন অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, ‘এই ছবি শুটিংয়ের সময় আমি ছিলাম, মারামারির একটা দৃশ্যে ভিলেনকে লাথি মারতে গিয়ে লাথিটা জোরে হয়ে গিয়েছিল। ভিলেন লাথি খেয়ে একটা ডোবার মধ্যে পড়ে গিয়েছিল, ওই ডোবায় একটি সাপ ছিল, ভিলেন হঠাৎ সাপ দেখে চিৎকার করে উঠল, ওপরে নায়ক ডোবায় সাপ।’

সুজন শাহ লিখেছেন, কাজের প্রতি ভালোবাসা, প্রজেক্টের প্রতি ডেডিকেশন এবং সর্বোপরি চরিত্রে ঢোকার অদম্য ইচ্ছা- এ সব কিছু মিলে ওনাকে একজন পেশাদার ও চমৎকার আর্টিস্ট হিসেবে দর্শকদের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।

শাহরুখ শাওন নামের একজন লিখেছেন, সত্যি বলতে কী আপনার অভিনয়ে কোনো শিল্প আমি খুঁজে পাই না। আমি আপনার ভক্তও হতে পারি নাই এখনো। প্রেম-পিরিতির ছবি বাদ দিন, টাকা খরচ করে ভালো পরিচালক দিয়ে, অ্যাকশন ডিরেক্টর দিয়ে থ্রিলার টাইপ ছবি করুন। প্রেম-পিরিতি আর ভালো লাগে না।

x