ডায়বেটিস থেকে বাঁচার অতি প্রয়োজনীয় কিছু নিয়ম

ডায়বেটিস শব্দটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত। এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যেখানে একজনেরও ডায়বেটিস নেই। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে ডায়বেটিস বলে।

সাধারণত প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্লুকোজ শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এই কারণে ডায়াবেটিস রোগীর ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, রক্তনালি, স্নায়ু, কিডনি, চোখ ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যাসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এজন্য শুরু থেকেই ডায়বেটিস যেনো না হয় এর জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা:

দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে শুধু ডায়াবেটিসই নয় বরং আরো নানা ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কমে আসে।

২.সবজি খাওয়া:

প্রতিদিন অন্তত এক বাটি সবজি বা সালাদ খান। যার মধ্যে থাকবে গাজর, শসা, লেটুস, টমেটো, ব্রকলি,ফুলকপি ইত্যাদি। প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এই সবজি বা সালাদ খেতে হবে। সালাদে এক চা চামচ ভিনেগারও যুক্ত করতে পারেন। ভিনেগার রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে সহায়তা করে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমবে।

হাঁটাহাঁটি করা:

ডায়বেটিস থেকে বাঁচার যাদুকরী উপায় হলো হাঁটাহাঁটি করা। প্রতিদিন যদি আপনি ৪০ মিনিট হাটতে পারেন তাহলে আপনার শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। ফলে ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকিও কমে আসবে।

খাবারে সতর্কতা:

সকালের নাস্তায় অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। ওটমিল, বার্লি,ব্রাউন রাইম,ভুট্টা,বাজরা ইত্যাদি শস্য জাতীয় খাবার দিয়ে সকালের নাস্তা করতে হবে। এতে ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমে আসবে। এছাড়া পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগ থেকেও বাঁচাবে। চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। চিনি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে।

৬. ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন
আজকাল চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফাস্টফুড। যা দেখে হয়তো লোভ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু ফ্রাইস, পিজ্জা, বার্গার এর মতো ফাস্ট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে স্থুলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এসব খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রায়ও ক্ষতিকরভাবে হেরফের ঘটিয়ে দিতে পারে। যা থেকে ডায়াবেটিসও হতে পারে।

৮. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন
মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগও হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে। সুতরাং আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি প্রায়ই তীব্র মানসিক চাপে থাকেন তাহলে রিল্যাক্স করার নানা কৌশল এবং যোগ ব্যায়াম করে স্ট্রেস কমান। এতে আপনার দেহে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।

৯.পর্যাপ্ত ঘুম:

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এমনকি সুস্থ থাকার জন্য ঠিকমত ঘুম অনেক জরুরী। ঘুম ভালো না হলে শারীরিক ও মানসিক অনেক সমস্যা দেখা দেয়।

১০. ধুমপান ত্যাগ করুন
স্ট্রেসের মতোই ধুমপানও নানা ধরনের মারাত্মক রোগের আরেকটি কারণ। ফুসফুস ক্যান্সার এর মতো ভয়ঙ্কর রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিসেরও একটি কারণ ধুমপান। সুতরাং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে না চাইলে আজই ধুমপান ছেড়ে দিন।