শিখে নিন তেজপাতা দিয়ে দাঁত ঝকঝকে সাদা করার কৌশল!

দাঁতকে ঝকঝকে সুন্দর করার জন্য কত কিছুই না করেন আপনি। দামী টুথপেস্ট থেকে শুরু করে ডেন্টিস্টের কাছে দামী ট্রিটমেন্ট, সবই কেবল হলদে দাঁতগুলোকে সাদা করার জন্য।

না, আজ থেকে আর কিছুই করতে হবে না, সাধারণ তেজপাতা দিয়েই প্রাকৃতিক উপায়ে সুন্দর করে নিতে পারবেন আপনি আপনার দাঁতগুলো? কীভাবে?

চলুন, জেনে নিন দাঁত সুন্দর করতে তেজপাতা ব্যবহারের প্রণালি।
দাঁত সাদা করতে তেজপাতা দারুণ উপকারী, তবে এই তেজপাতাকে মেশাতে হবে কোন টক ফলের সাথে। যেমন ধরুন কমলা বা লেবুর খোসা।

যা যা লাগবে
তেজপাতা ৪টি (কাঁচা বা শুকনো সব রকমেই হবে)
কমলা ও লেবুর খোসা (তেজপাতার সম পরিমাণ)
মুখে দুর্গন্ধের সমস্যা বা মাড়িতে ব্যথা থাকলে লবঙ্গ ২/৩ টি

প্রণালি
-তেজপাতা বেটে নিন বা মিহি গুঁড়ো করে নিন।
-কমলা বা লেবুর খোসা শুকিয়ে লবঙ্গের সাথে মিশিয়ে গুঁড়ো করে নিন।
-সব উপকরণ সামান্য লবণ সহযোগে একত্রে মিশিয়ে নিন।
-ফলের খোসা শুকিয়ে নেয়া জরুরী। কাঁচা অবস্থায় দাঁতের ক্ষতি করবে।

ব্যবহার বিধি
এই গুঁড়োটি সামান্য পানির সাথে মিশিয়ে সপ্তাহে ৩ দিন দাঁত মাজুন। রোজ মাজার প্রয়োজন নেই, এতে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। দাঁতের হলদে ভাবের ওপর নির্ভর করে সপ্তাহে দুই থেকে তিন বার ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

কী দিয়ে এ ‘লজ্জা’ ঢাকবে ঢাকা?

চাপের শহর ঢাকা

বিশ্বে সবচেয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপের শহরগুলোর সপ্তম স্থানে আছে ঢাকা৷ তবে এশিয়ায় ঢাকার অবস্থান আরো খারাপ৷ মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই চাপ হতাশার সৃষ্টি করে৷ এই হতাশার কারণে অনেক নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে৷

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা জিপজেট মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম, লৈঙ্গিক সমতাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করে এই তালিকা তৈরি করেছে৷ তাঁদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে কম চাপের শহর জার্মানির স্টুটগার্ট৷

১৫০টি শহরের উপর করা বৈশ্বিক এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৪৪, যা এশিয়ার মধ্যে খুব খারাপ৷ তবে ঢাকার চেয়েও বেশি চাপের মধ্যে আছে ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের কাবুল, নাইজেরিয়ার লাগোস৷ তালিকার সবশেষে, মানে সবচয়ে বেশি চাপের শহর হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকের রাজধানী বাগদাদ৷

তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চাপের শহর বাগদাদ৷ তারপরই রয়েছে যথাক্রমে কাবুল, লাগোস, ডাকার, কায়রো এবং তেহরান৷ ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে৷ সবচেয়ে চাপের শহরের সেরা দশের তালিকায় অষ্টম, নবম ও দশম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে করাচি, মুম্বাই ও ম্যানিলা৷

ঢাকার চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছে ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই৷ তাদের অবস্থান যথাক্রমে ১৪২ ও ১৩৮৷ পাকিস্তানের করাচি আছে ঠিক ঢাকার উপরে, ১৪৩তম স্থানে৷ ঢাকা বিশ্বের অন্যতম চাপগ্রস্থ শহর হওয়ার পিছনে ছিল মূলত ট্রাফিক জ্যাম, ঘন জনবসতি ও দুষণ৷ এছাড়া ঢাকাবাসীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের র‌্যাংকিংও খুব ভালো নয়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মালেক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা যানজট৷ গাড়ি বেশি, সড়ক কম৷ ঢাকা একটা মেগাসিটি৷ এখানে অনেক লোকের বসবাস৷ এখানে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তা নেই৷ মার্কেটগুলো শহরে আরো চাপ তৈরি করছে৷ এর একটা প্রভাব আছে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘দুযোর্গ দুই ধরনের৷ একটা প্রাকৃতিক এবং আরেকটা মানুষের সৃষ্টি৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা অভ্যস্ত৷ এটা আমরা জানি কখন কী করতে হবে৷ কিন্তু মানুষের সৃষ্টি দুর্যোগের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকি না সব সময়৷ তাই চাপ সৃষ্টি করে৷ আমরা এই শহরে যা আশা করি, তা পাই না৷ আবার একটি সমস্যার সমধান যত দ্রুত চাই, তা হয় না৷ এগুলো হতাশ করে৷ তাপরও মানুষ আশাবাদী৷ ঢাকা শহরের মানুষ আশা করে এসব সমস্যার সমাধান হবে৷’’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম মনে করেন, ‘‘ঢাকা শহর নানা দিক দিয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে৷ এটা বড় ধরণের মানসিক চাপে রাখছে ঢাকার অধিবাসীদের৷ তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে৷ বাসা থেকে কর্মস্থলে যেতে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় পথে থাকতে হয়৷’’

তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকরা অনেক সুযোগ-সুবিধাই পায়না৷ তারপরও গ্যাস, বিদ্যুত, পানির দাম বাড়ছে, বাড়ছে হোল্ডিং ট্যাক্স৷ নগরবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে৷’’

এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এর ফলে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে৷ ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে৷ অল্পতেই রেগে যাচ্ছে৷ রগচটা হয়ে পড়ছে৷ সামাজিক আচরণে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে৷ তরুণ বা কমবয়সিরা এই মানসিক চাপ বা হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হতে পারে, অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে৷’’

চাপ কম এমন বিবেচনায় শীর্ষ পাঁচটি শহরের তিনটি শহরই জার্মানির৷ স্টুটগার্ট প্রথম, হানোফার তৃতীয় এবং মিউনিখ রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে৷ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি রয়েছে তালিকার ৮ নম্বরে৷ শীর্ষের বেশিরভাগ শহরই ইউরোপের৷ এশিয়ার মধ্যে কম চাপের শহর সিঙ্গাপুর৷ তাদের অবস্থান ৪২৷ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রয়েছে তালিকার ৮৪ নম্বরে৷ মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের অবস্থান ১১০ তম৷ DW

প্রিয় পাঠক, আপনি কিছু বলতে চাইলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে…

মুহাম্মদ সা: বলছেন, কালোজিরা সকল রোগের ওষুধ, তাহলে ক্যান্সারের রোগীকে কালোজিরা খাওয়ানো হয়না কেন?

একটা বক্স হাতে FBS এর দিকে আরজুকে যেতে দেখলাম। ডাক দেবার পর থামলে জিজ্ঞেস করি, কই যাচ্ছিস?

আরজু বললো, ক্যান্সার আক্রান্ত এক মায়ের জন্য টাকা তুলতে যাচ্ছে সে।
এরকম জনহিতকর কাজে সবসময়ই এগিয়ে আসে আরজু, তবে কাউকে বলেনা, এমনকি আমাকেও যেতে বলেনা। ভাবলাম এমনিতেই তো ফ্রি আছি, তাই আরজুর সাথে গেলাম এক ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের জন্য টাকা তুলতে।

সবার কাছে গিয়ে ঐ অসুস্থ মায়ের দূর্দশার কথা বলতে থাকলাম।যে যেরকম পারছে দানবক্সে টাকা দিচ্ছে, কেউ ১০ টাকা, কেউ ২০ টাকা, আবার একটু আগে একজন ১০০০ টাকারও একটা নোট দিলেন।

ডাকসুর সামনে যেতে বিপ্লব ভাইকে দেখলাম।সিগারেটের ধূয়া আকাশের দিকে ছেড়ে ঐ ধোয়ার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বিপ্লব ভাইয়ের কাছে গিয়ে একটু কথাবার্তা বলে ক্যান্সার আক্রান্ত ঐ মায়ের জন্য টাকা চাইলাম।
বিপ্লব ভাই হেসে বললেন, “এই ১০ লক্ষ টাকা তুলে আর কী করবা তার চেয়ে বরং ঐ মা’কে সামান্য কালোজিরা খাওয়াও।ঠিক হয়ে যাবেন।”
এরকম মুহূর্তে বিপ্লব ভাইয়ের মজা নেওয়া দেখে আমার কিছুটা বিরক্ত লাগলো, বেচারা সিচুয়েশনও বুঝেননা।বিরক্তির সুরে বললাম, “ভাই এগুলো কি বলছেন,ক্যান্সার হইছে এর মধ্যে কালোজিরা খাইয়ে কি হবে?

বিপ্লব ভাই হাসলেন, হাসি থামিয়ে বললেন, “তোমাদের নবী নাকি বলছেন কালোজিরা সকল রোগের ওষুধ (!) তাহলে আবার টাকা তুলে ক্যান্সার রোগীদের সাহায্য করার দরকার কি?কালোজিরা খাওয়ালেই তো হয়।”

বিপ্লব ভাই যেটা বলছেন, সেটাতো আসলেই সত্যি। ছোটবেলায় এরকম ওয়াজ শুনেছিলাম যে, কালোজিরা খাইলে সব রোগ কমে যায়, তাহলে ক্যান্সার রোগীকে কালোজিরা খাওয়ানো হয়না কেন? নাকি এই হাদীসটি অযৌক্তিক!

আরজু বিপ্লব ভাইকে পাল্টা জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা ভাই,আপনি কি এই হাদীসটা কোনো হাদীস গ্রন্থ থেকে পড়েছেন, কিংবা কোনো হাদীসের এপস থেকে পড়েছেন?”
বিপ্লব ভাই অনেকটা রেগে গিয়ে বললেন, “তার মানে,আমি কি মিথ্যা বলছি? এটা সহীহ বুখারীর হাদীস।”

আরজু বললো, “ভাই আমি ঐটা বলিনি, হাদীসটা সহীহ না জাল।আমি জিজ্ঞেস করছি এই হাদীসটা আপনি কোথায় থেকে জানছেন? মুক্তমনা ব্লগ থেকে নাকি হাদীসের বই থেকে?”

বিপ্লব ভাইয়ের কন্ঠ এখন একটু নরম হলো, তিনি বললেন, “আমি ব্লগ থেকে জানছি।”

আরজু হাসলো, “আমি জানতাম এরকমই হবে।আপনারা হাদীস শিখেন মুক্তমনা ব্লগে ঢুকে, হাদীসের এতগুলো বই বাদ দিয়ে যেখানে ইসলামের বিদ্বেষী লেখালেখি হয় সেখানে যান। হাদীস শিখতে।”

আরজুর কথাশুনে বিপ্লব ভাই সত্যি সত্যি রেগে গেলেন, আরজুকে শাসিয়ে বললেন, “হইছে হইছে এবার আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।ক্যান্সার রোগীকে তোমাদের নবীর কথামতো কালোজিরা খাওয়াও না কেন?”

আরজু বললো, “আপনার বলা মিথ্যা হাদীসটির সংশোধন আগে করে নেই। নবী সা: বলেছেন, কালোজিরা সাম ব্যতীত সকল রোগের উপশম (healing)। সাম মানে হলো মৃত্যু। (বুখারী: ৫৬৮৮, তিরমিযী ২০৪১, ইবনু মাজাহ ৩৪৪৭)।
ভালো করে দেখুন এখানে ওষুধ বলা হয়নি, বলা হয়েছে উপশম/healing। এখন বলুন উপশম আর ওষুধ কি এক হয়?”

নিজের ভূয়া তথ্যের জালে নিজেই আটকে গিয়ে বিপ্লব ভাইয়ের মুখ দিয়ে আর কোনো কথা বের হচ্ছেনা।

আরজু বলে চললো, “তবে কালোজিরাতে এমন সব উপাদান আছে যা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পথপ্রদর্শক ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কানুন ফিত তিবব’ (Canon Of Medicine) গ্রন্থে বলেছেন, কালোজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং এর মধ্যে শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যার মধ্যে ২১ শতাংশ প্রোটিন, ৩৮ শতাংশ শর্করা, স্নেহ পদার্থ ৩৫ শতাংশ এবং বাকি অংশ ভিটামিন ও খনিজ।”

বিপ্লব ভাই বললেন, এগুলো তো তোমদের নবীর হাদীস ডিফেন্স করতে গিয়ে মুসলিম বিজ্ঞানীর কথা।তিনি তো কালোজিরার পক্ষেই সাফাই গাইবেন।

আরজু হাসলো, “আপনাদের নিয়ে পারিও না! আমেরিকার বিখ্যাত ডাক্তার জোসেফ মেরকোলার (Joseph Mercola) নাম শুনছেন?”

বিপ্লব ভাই না সূচক মাথা নাড়লেন।

আরজু বলে চললো, উনি হলেন আমেরিকার একজন বিখ্যাত ডাক্তার। Fat for fuel:A Revolution, The No-Grain Diet এরকম কয়টি বিখ্যাত বইও লিখেন।

কালোজিরা নিয়ে ৬৫০ টা রিসার্চ করা হয় উনার অধীনে। এই রিসার্চ এর সমাপ্তীতে তিনি বলেন,কালোজিরার মধ্যে ফার্মাকোলজিকাল কমপক্ষে ২০ টা উপাদান আছে।
তারমধ্যে থাইমোকুইনইন (Thymoquinone) হলো এন্টি-ক্যান্সারের জন্য ব্যবহৃত উপাদান।
কালোজিরার মধ্যে এই থাইমোকুইনইন উপাদানটি পাওয়া যায়।

অক্সিডিটিভ স্ট্রিস (Oxidative Stress) ডায়াবেটিস নিরোময়ে ব্যবহৃত হয়।
কালোজিরার মধ্যে এই উপাদানটি ও পাওয়া যায়।
বিপ্লব ভাইয়ের হাতের সিগারেটের শেষ টান দিলেন।

আরজু বললো, “নবী সা: বলেননি রোগ হলে কালোজিরা খেতে, তিনি বলেছেন কালোজিরা খেতে যাতে সেটি রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে আরো শক্তিশালী করে। কিন্ত হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আপনি বলছেন ওষুধের কথা!”

সিগারেট ফেলে দিয়ে বিপ্লব ভাই পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দানবক্সে রাখলেন।
আমি বললাম, বিপ্লব ভাই! সিগারেটের পকেটে কিন্ত লেখা আছে, ‘Smoking causes Cancer’
তাই ধূমপানও করুন, কালোজিরাও খান।
আমার কৌতুক শুনে বিপ্লব ভাই হাসলেন।
আমরা চললাম পরবর্তী জনের কাছে,
“ভাই, আমাদের বন্ধুর মা ক্যান্সারে আক্রান্ত, একটু যদি সাহায্য করতেন…”

x