১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে বেবী নাজনীন

১০৫ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন। ১৮ নভেম্বর হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শিল্পীর কিডনির কিছু জটিলতাও রয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় বেবী নাজনীনের ভাই এনাম সরকার জানান, জ্বরের প্রকোপ দেখে শুরুতে চিকিৎসকেরা সন্দেহ করেছিলেন, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। হাসপাতালে ভর্তির পর করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে কিছু পরীক্ষা করাতে হয়েছে। সেসব পরীক্ষার ফল আগামীকাল পাওয়া যাবে। শিল্পীর সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন তাঁর ছেলে মহারাজা এবং বোন রিনি সাবরিন।

তিন দিন আগে অনলাইনে একটি রাজনৈতিক সভায় যোগ দেন বেবী নাজনীন। ব্যস্ততার কারণে সেদিন সময়মতো খাওয়ার সুযোগ পাননি। এই অনিয়মের কারণেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন তাঁর ভাই। এনাম সরকার বলেন, বেবী নাজনীনের কিডনিতে কিছু সমস্যা আছে। সে জন্য তাঁকে খুব নিয়ম মেনে চলতে হয়। রাজনীতিতে জড়িত বলে প্রায়ই দেশ-বিদেশে থাকা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়। তখন দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সমস্যা আসলে কী, সেটা রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। তাঁর জন্য সবার কাছে তিনি দোয়া চেয়েছেন।

বেবী নাজনীন বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। ছেলে মহারাজ অমিতাভ যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। এ ছাড়া গান গাওয়ার জন্য প্রায়ই বিভিন্ন দেশে যান তিনি। এনাম সরকার জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতেই বেবী নাজনীন যুক্তরাষ্ট্রে যান। গত মার্চে দেশে ফেরার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির সংক্রমণে তাঁর আর দেশে ফেরা হয়নি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ‘এলোমেলো বাতাসে’, ‘রংধনু থেকে’, ‘মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে’, ‘দুচোখে ঘুম আসে না’, ‘কাল সারা রাত ছিল’, ‘ও বন্ধু তুমি কই’—এমন অনেক জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে সংগীতপ্রিয় মানুষের প্রিয় শিল্পী হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

x