টানা ৩ ম্যাচ হেরেও দুঃখ নেই ঢাকার কোচ সুজনের

জেমকন খুলনাই কেবল সর্বাধিক চারটি ম্যাচ খেলেছে। এ ছাড়া গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম, মিনিস্টার রাজশাহী, ফরচুন বরিশাল আর বেক্সিমকো ঢাকা-চার দলই সমান তিনটি করে ম্যাচ খেলেছে।

সেখানে মুশফিকুর রহীমের ঢাকাই একমাত্র দল, যারা এখনো জয়ের দেখা পায়নি। সব খেলায় হেরে পয়েন্ট টেবিলে সবার নিচে।

মিনিস্টার রাজশাহীর কাছে প্রথম দিন শেষ ওভারের শেষ বলে গিয়ে মাত্র ২ রানের দুর্ভাগ্যজনক হার দিয়ে শুরু। তারপর যেন শনির দশা লেগেছে। হারের বৃত্তে আটকা খালেদ মাহমুদ সুজনের শিষ্যরা।

‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহীম, নাইম শেখ, ইয়াসির আলী রাব্বি, সাব্বির রহমান রুম্মন আর রুবেল হোসেনের মতো পরিচিত পারফরমারের সাথে বিশ্ব যুব ক্রিকেট দলের তিন নিয়মিত সদস্য তানজিদ তামিম,

অধিনায়ক আকবর আলী আর শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে সাজানো বেক্সিমকো ঢাকা যেন কিছুতেই জয়ের পথ খুঁজে পাচ্ছে না।

কাগজে-কলমে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম আর জেমকন খুলনার মতো তারকায় ঠাসা দল না ঢাকা। মিনিস্টার রাজশাহী আর ফরচুন বরিশালের চেয়েও পরিণত, প্রতিষ্ঠিত ও অভিজ্ঞ পারফরমার তুলনামূলক কম।

তারপরও মুশফিকুর রহীমের মতো ম্যাচ উইনার আছেন দলে। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার চেয়ে রান ক্ষুধা নেই কারও। ম্যাচ জেতানোয়ও মুশফিকের জুড়ি মেলা ভার।

কিন্তু এ আসরে অন্তত দুবার ম্যাচ জেতানোর সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি মিস্টার ডিপেন্ডেবল। সাব্বির রহমান রুম্মন, ইয়াসির রাব্বি ও তানজিদ তামিম এবং আকবর আলীরাও সেভাবে সাহায্যর হাত বাড়াতে পারেননি। সব মিলে ঢাকা পড়ে আছে তলানিতে।

কেন এই ব্যর্থতা? কি কারণে বারবার হোঁচট খাচ্ছে ঢাকা? এমন প্রশ্নে দলটির হেড কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘আসলে কোনো বিশেষ কারণ নেই। যে কোনো কারণেই হোক লক্ষ্য-পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না।’

ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে গিয়ে সেভাবে কাউকে দুষতে নারাজ সুজন। সোমবার জেমকন খুলনার বিপক্ষে ইয়াসির আলী রাব্বির আউট হওয়ার ধরন, শট সিলেকশন আর ম্যাচ কন্ডিশনে হাসান মাহমুদের মতো দ্রুতগতির বোলারের বিপক্ষে অনসাইডে সরে জায়গা বানিয়ে পয়েন্টে খেলার চেষ্টাটা ভালো লাগেনি সুজনের।

সুজন বলেন, ‘এমন নয়, ইয়াসির রাব্বিও তানজিদ তামিম কিংবা আকবর আলীর মতো একদমই নবীন ও অনভিজ্ঞ। মোটামুটি কয়েক বছর ধরেই খেলছে।

সে দেখলো জুটি জমে গেছে। দুজনই ওয়েল সেট। ওই উইকেটে থিতু হওয়ার পর সে বেছে নিল প্রতিপক্ষের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার হাসান মাহমুদকে। তার উইকেট সোজা বলকে লেগসাইডে সরে অফসাইডে গেল খেলতে। সেটাই বুমেরাং হলো। ওই জুটিটি আর কয়েকটি ওভার দীর্ঘ হলেই হয়তো ম্যাচের চালচ্চিত্র ভিন্ন হতো।’

এ তো গেল জেমকন খুলনার সাথে ম্যাচের কথা। সামগ্রিকভাবে ঢাকার ব্যর্থতার পোস্টমর্টেম করতে গিয়ে কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন মনে করেন, দলে অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সংখ্যা বেশি। নবীন ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের আসলে চাপ সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। তারা চাপের মুখে খেই হারিয়ে ফেলছেন।

তানজিদ তামিম ও আকবর আলীসহ তরুণদের সম্পর্কে সুজন বলেন, ‘তারা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছে ছোট দলের পক্ষে। যেখানে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কোনো চাপ থাকে না।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ঢাকার মতো দলের হয়ে খেলতে গিয়ে চাপ অনুভব করছে। আমার মনে হয় তারা সেই চাপটা নিতে পারছে না। সে কারণেই ব্যাটিংটা প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাচ্ছে না। ভাইটাল ক্যাচ হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে।’

খেলোয়াড়ি জীবনের লড়াকু ক্রিকেটার খালেদ মাহমুদ সুজন কোচ হিসেবেও বরাবরই সাহসী। সাফল্য তার প্রায় নিত্যসঙ্গী। বিপিএলে তার কোচিংয়ের দলই সর্বাধিক ফাইনাল খেলেছে। ঢাকার প্রিমিয়ার লিগেও আবাহনী তার কোচিংয়েই গতবারও লিগ শিরোপা জিতেছে।

তিন খেলায় পরাজিত হয়েই হতাশায় ভেঙে পড়তে নারাজ সুজন। তার শেষ কথা, ‘এখনই হতাশায় মুষড়ে পড়ার কিছু নেই। সব শেষ হয়ে গেছে এমন ভাবারও কোনো কারণ নেই। হাতে আরও ৫টি খেলা বাকি। ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছি।’