নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান অস্ট্রেলীয় সেনার!

নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা দিয়ে বিয়ার পান করছেন অস্ট্রেলিয়ার একজন সিনিয়র সেনা। ছবি: গার্ডিয়ান

অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র স্পেশাল ফোর্সেসের সৈন্যরা আফগানিস্তানের একটি অননুমোদিত বারে একজন মারা যাওয়া তালেবান সৈন্যের কৃত্রিম পা থেকে বিয়ার পান করেছিল – মঙ্গলবার গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো এমন জঘন্য কাজের একটি ছবি প্রকাশ করেছে।

গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর জ্যেষ্ঠ এক সেনা নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা দিয়ে মদ পান করছেন। সেনাবাহিনীর ওই সদস্য এখনো অস্ট্রেলিয়ার সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত।

ফ্যাট লেডিস আর্মস নামের অনুমোদনহীন পানশালাটি ২০০৯ সালে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের রাজধানী তারিন কোট শহরে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর শিবিরে স্থাপন করা হয়।

গেলো মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বিভাগ একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে আফগানিস্তানে বিশেষ বাহিনীর সেনাদের নৃশংসতা তুলে ধরা হয়। অন্তত ১৩ সেনা সদস্যকে ইতোমধ্যে বরখাস্তের নোটিশ দেয়া হয়েছে। বরখাস্তের নোটিশ পাওয়া সেনারা ৩৯ আফগান বেসামরিক নাগরিক হত্যায় অভিযুক্ত। এর মধ্যেই দেশটির বিশেষ বাহিনীর সেনাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন এই ভয়াবহ প্রমাণ সামনে এলো।

আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, দুজন অস্ট্রেলিয়ান সৈন্য নিহত তালেবান যোদ্ধার কৃত্রিম পা নিয়ে নাচানাচি করছেন এবং ছবি তুলছেন।

২০১৯ সালের এপ্রিলে কৃত্রিম পা ব্যবহারকারী সন্দেহভাজন ওই তালেবান যোদ্ধা উরুজগানের কাকারাকে সার্স-২ স্কোয়াড্রন নামের হামলায় নিহত হন বলে গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কৃত্রিম এ পা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফ্যাট লেডিস আর্মস পানশালায় নিয়ে আসা হয়। দর্শনার্থীরা মাঝে মাঝে এটাকে মদ পানে ব্যবহার করতো। কিছু সেনা জানান, কৃত্রিম পা দিয়ে মদ পানের বিষয়টি জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের কাছে নিয়মিত ব্যাপার ছিল। কখনো কখনো জুনিয়ররাও এটি দিয়ে মদ পান করতো। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে আসা অস্ট্রেলীয় সেনাদের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও যুদ্ধের ট্রফি হিসেবে কৃত্রিম পা-টি নিয়ে আসা হয়।

এ পর্যন্ত যে তথ্য প্রমাণ প্রকাশ হয়েছে তার ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায় বিচারের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

আফগানিস্তান, তুরস্ক এবং চীন এ ঘটনায় বিস্তৃত তদন্ত দাবি করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে তারা।