ম্যারাডোনার নামে নাপোলি স্টেডিয়াম

গোটা পৃথিবীতে ডিয়েগো ম্যারাডোনার জনপ্রিয়তা আছে। এবং তার মৃত্যু পরও চিরজীবন ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে থেকে যাবেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর। নেপলসের মানুষদের কাছে তো অবশ্যই।

ইতালিয়ান শহরটির ক্লাব নাপোলিকে স্মৃতির মণিকোঠায় সাজিয়ে রাখার উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন তিনি। আর তাই নেপলসের মানুষের আবেগে নানাভাবে মিশে আছেন ৬০ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া কিংবদন্তি। এই কারণে তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরেই নাপোলি ইঙ্গিত দিয়েছিল তাদের স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে ম্যারাডোনার নামে করার।

নাম পাল্টেও ফেলেছে নাপোলি। স্তাদিও সান পাওলো এখনও স্তাদিও ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। শুক্রবার নেপলস সিটি কাউন্সিল নাম পরিবর্তনের স্বীকৃতি দিয়েছে। ম্যারাডোনার ক্লাব ছাড়ার পর ১০ জার্সিকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া এবং মৃত্যুর পর স্টেডিয়াম তার নামে করে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো- বলার অপেক্ষা রাখে না ইতালিয়ান ক্লাবটির সবটা জুড়ে আছেন ম্যারাডোনা।

নাপোলির ৯৪ বছরের ফুটবল ইতিহাসে কেবল দুটো স্কুদেত্তো জেতার সুযোগ হয়েছে। আর এই দুটোই ঘরে উঠেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুতে। নেপলসের ক্লাবে উৎসবের রং ছড়িয়ে দেওয়া ফুটবল ঈশ্বর সিরি ‘আ’ জিতিয়েছিলেন ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে। তাছাড়া ইউরোপিয়ান প্র্রতিযোগিতায় একমাত্র শিরোপা উয়েফা কাপও ঘরে উঠেছিল ম্যারাডোনার সৌজন্যে।

আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের মৃত্যুর পর ইউরোপা লিগের ম্যাচে শ্রদ্ধা জানিয়েছিল নাপোলি। পরে রোমার বিপক্ষে লিগ ম্যাচেও জানানো হয়েছে শ্রদ্ধা। ম্যাচের দশম মিনিটে রেফারি খেলা বন্ধ রাখেন এবং দুই দলের খেলোয়াড়, কোচ ও স্টাফেরা এক মিনিটের করতালিতে স্মরণ করেন ম্যারাডোনাকে। আর এবার নাপোলি তাকে আবারও বড় সম্মান জানানো স্টেডিয়ামের নাম পাল্টে।

গত ২৫ নভেম্বর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ম্যারাডোনা। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছিল তার। হাসপাতাল ছেড়ে ফিরেছিলেন নিজ বাড়িতে। কে জানতো, পৃথিবীতে তার জন্য অপেক্ষা করছিল আর কয়েকটা দিন। মাত্র ৬০ ‍বছর বয়সে কোটি ফুটবলভক্তকে কাঁদিয়ে অন্য পারের বাসিন্দা হয়েছেন বাঁ পায়ে অসংখ্য মুহূর্তের জন্ম দেওয়া ফুটবল ঈশ্বর।