ওষুধ, স্প্রে ছাড়াই দূর হবে সাইনাস

শীত চলে এসেছে। এই সময়ে অনেকের সাইনাসের সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করে। তবে জানা থাকা ভালো যে, সাইনাস কোনো রোগ নয়,

সাইনাস আমাদের মাথায় অবস্থিত একটি প্রকোষ্ঠ, যার কাজ ভেন্টিলেশনকে ঠিক রাখা।সেই ভেন্টিলেশনের কাজে বিঘ্ন ঘটলে যে সমস্যা হয় তাকেই আমরা ‘সাইনাস’ বলি।

চিকিৎসা পরিভাষায় এটিকে বলা হয় ‘সাইনোসাইটিস’। এই প্রকোষ্ঠগুলির ঝিল্লিপর্দায় বায়ু চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে অথবা মিউকাস জমলে প্রবল প্রদাহ হয়। ফলে সাইনাসে ব্যথা হয়। অনেকের নাকের হাড় বাঁকা থাকলে এই সমস্যা হয়। আবার অ্যালার্জির কারণেও সাইনোসাইটিস হয়।

এক্স-রে করলে সাইনাসের অঞ্চলটি ঘোলাটে দেখালেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন সমস্যা। এই ধরনের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উত্তম। তবে ঘরোয়া কিছু উপায়ে সাইনাসের সমস্যা দূর করা সম্ভব।

গরম তরল খাবার

সাইনাসের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রধান হাতিয়ার গরম তরল খাবার। এতে নাসারন্ধ্রে জমে থাকা মিউকাস অনেক তরল হয়ে যায়। এতে দূর হয় কপালে চাপ ধরে থাকা ব্যথাও। ন্যাজাল ফ্লাশিং সাইনাসের এই ব্যথা থেকে উপশম পেতে সাইনাসের ব্লকেজগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এর জন্য এক নাক দিয়ে পানি টেনে অন্য নাক থেকে বের করলে শ্লেষ্মা ঝিল্লি বা মিউকাস মেমব্রেনস আর্দ্র থাকে এবং এই সমস্যা হয় না। এই পদ্ধতি প্রয়োগে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাকেও দূর করা যায়।

নাক দিয়ে পানি টানা

নাক দিয়ে পানি টানার চেয়ে ভালো ঘরোয়া পদ্ধতি সাইনাসের ক্ষেত্রে আর কিছু নেই। তবে এটা একদিনে অভ্যাস করা মুশকিল। সামান্য উষ্ণ গরম পানি হাতে নিয়ে এক নাক দিয়ে টেনে, অন্য নাক দিয়ে বার করে দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে শ্বাসনালী পুরো পরিষ্কার হয়ে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সাইনাসের রোগী আরাম পান।

ভাপ নেয়া

সাইনাসের অংশ শুকিয়ে গেলে সাইনাসের যন্ত্রণা শুরু হয়। তাই সাইনাসকে আর্দ্র রাখতে ভাপ নেওয়া যেতে পারে। আর তা সহজেই বাড়িতে করা যায়। ভাপ নিতে একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে নিতে হবে। তার কিছুটা উপরে মুখ রেখে, মাথা ও পাত্র পর্দার মতো করে একটি মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। একটি নাক থেকে শ্বাস নিয়ে অপরটি দিয়ে ছাড়তে হবে। এমন ২-৩ মিনিট ধরে করলে সাইনাস আর্দ্র হয়ে যাবে।

বিশ্রাম

যদি খুব বেশি ব্যথা হয়, মাথা তুলতে না পারা যায়, তাহলে শুধু ভালো করে বিশ্রাম নিলে ব্যথা সেরে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ভালো করে ঘুমালেও কাজ দেয়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক দুই ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল আঙুলে নিয়ে নাকের গোড়ায় লাগিয়ে নিন। ঘুমের সময়টুকু আরাম পাবেন। ঘুমনোর সময় এসি চালানোর অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। প্রয়োজনে ঘুমের ঘণ্টা খানেক বা ঘণ্টা দেড়েক আগে এসি চালিয়ে নিয়ে ঘর ঠাণ্ডা করে তারপর ফ্যান চালিয়ে শুতে যান। মাথা যন্ত্রণা হলে গরম পানিতে নরম সুতির কাপড় ভিজিয়ে বার বার মাথায় দিন। কিছুটা আরাম পাবেন। মাথা উঁচুতে রেখে ঘুমানো ঘুমানোর সময় একটু বেশি উঁচুতে মাথা রেখে শুলে সাইনাস পরিষ্কার হতে সুবিধা হয়।

প্রচুর পরিমাণ পানি খান

প্রচুর পরিমাণ পানি খান। এতে অ্যাসিডিটি এড়ানো যাবে। অ্যাসিডিটি যত কমবে ততই কমবে মিউকাস। এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার, হাফ চামচ হলুদ, সামান্য আদা কুচি, লেবু, সামান্য গোলমরিচ, তিন চার কোয়া রসুন দিয়ে পানি ফোটান। ফুটে গেলে আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে খান। এতে মধুও দিতে পারেন।

ভেপার নিন

ধোঁয়া ওঠা ফুটন্ত গরম পানিতে এক-দু’ফোঁটা এসেনশিয়াল ইউক্যালিপটাস অয়েল ফেলে সেই পানি ইনহেল করুন। এই সময়ে মাথা একটা তোয়ালে দিয়ে ঢেকে নিলে পুরো বাষ্পটাই গিয়ে ধাক্কা মারবে জমে থাকা মিউকাসে। ফলে উপকার পাবেন তাড়াতাড়ি।

ভাজাভুজি এড়িয়ে চলু্ন

ক্রনিক সাইনাস থাকলে দুগ্ধজাতীয় খাবার, ময়দা, ভাজাভুজি এড়িয়ে চলতে হবে। খাবারে পিঁয়াজ, রসুন, আদার ব্যবহার বাড়ান। শরীর শুকিয়ে গেলে সাইনাস শুকিয়ে যাবে। তাই শরীরকে আর্দ্র রাখা জরুরি। সারাদিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি খেলে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। আর এক্ষেত্রে একটু ঈষৎ উষ্ম পানি খেলে আরও ভালো। এটি ন্যাজাল মিউকাস ভেলোসিটি বাড়িয়ে সাইনাস বের করতে সাহায্য করে।

সাইনাসের সমস্যা যখন তখন হানা দিতে পারে। কিন্তু সব সময় হাতের কাছে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। আবার সব পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উপায়ও থাকে না। তাই সাময়িক আরাম পেতে ঘরোয়া উপায়েই ভরসা রাখুন।