দুই মাসের শিশুকে ১৯ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন!

শিশুটির বয়স মাত্র দুই মাস। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে তাকে। ব্রিটেনে বিরল রোগে আক্রান্ত এই শিশুটিকে দেওয়া হবে ১৯ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন!

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শিশুটি যে রোগে ভুগছে তার নাম জেনেটিক স্পাইনাল মাসক্যুলার অ্যাথ্রফি (এসএমএ)। এই রোগ বিশ্বের যেকোনো রোগ এমনকি ক্যান্সারের চেয়েও মারাত্মক। এজন্য চিকিৎসাও অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

এসএমএ শরীরে এসএমএন-১ জিনের অভাবে ঘটে। এর ফলে বুকের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। এই রোগটি বেশিরভাগ শিশুদেরই হয় এবং পরে অসুবিধা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী মারা যায়।

প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনে এই রোগের প্রকোপ বেশি। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ৬০ জন এমন শিশু জন্মগ্রহণ করে যাদের এই রোগ রয়েছে। ব্রিটেনে আরও শিশু এই রোগে ভুগছে। তবে এটির ওষুধ এখানে তৈরি হয় না।

এই রোগ হলে শিশুদের যে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় তার নাম জোলগেনসমা। ব্রিটেনে এই ইঞ্জেকশনটি যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং জাপান থেকে আনানো হয়। এই ইঞ্জেকশনটি আক্রান্ত রোগীকে মাত্র একবার দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, জোলগেনসমা সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইঞ্জেকশন। এটির খরচ পড়বে ১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০ কোটি টাকা (১৯ কোটি ৪৬ লাখ)।

এই রোগের চিকিৎসা তিন বছর আগে পর্যন্ত সম্ভব ছিল না। তবে ২০১৭ সালে অনেক গবেষণা এবং পরীক্ষার পরে এই রোগের ক্ষেত্রে সফলতা আসে।

২০১৭ সালে ১৫ শিশুকে এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল, এই শিশুরা ২০ সপ্তাহের বেশি বেঁচে ছিল।

এবার যে শিশুকে ১৬ কোটি টাকার ইনজেকশন দেওয়া হবে তার নাম এডওয়ার্ড। তার বাবা-মা ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার জন্য তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত সহায়তা হিসেবে ১.১৭ কোটি টাকা পেয়েছেন।

তবে এডওয়ার্ডের বাবা-মা বলছেন, টাকার চেয়ে তাদের কাছে শিশুর জীবন অনেক দামি।