চাকরি হারিয়ে শিক্ষকের আত্মহত্যা : স্বামীর সঙ্গে একই চিতায় দাহ করার আকুতি স্ত্রীর

করোনায় চাকরি হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ। চাকরি হারানো ব্যক্তিরা পরিবার নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছেন। তেমনি এক ভারতীয় চাকরি হারিয়ে বেছে নিয়েছেন মৃত্যুর পথ।

স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে স্ত্রীও আকুতি জানান স্বামীর সঙ্গেই তাকে যেন দাহ করার হয়। রাগে-ক্ষোভে বলতে থাকেন, ‘আমি এর বিচার চাই। আমাকেও স্বামীর সঙ্গে চিতায় পুড়িয়ে দাও।’ ভারতের ত্রিপুরায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর থেকে গণঅবস্থান করছেন ত্রিপুরায় চাকরি হারানো ১০ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষক। শীতের মধ্যে তারা গত ২৭ দিন ধরে আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে গণবস্থান করছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কাছে চাকরির লিখিত প্রতিশ্রুতি চান তারা। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে দেখা করে কোনো কথা বলেননি।

চাকরি হারানো এই শিক্ষকদের একজন ছিলেন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া উত্তম ত্রিপুরা (৩২)। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার তৃষ্ণা গাঁওপঞ্চায়েত এলাকার কমলাকান্ত পাড়ায় তিনি স্ত্রী, দুই সন্তান এবং মা-বাবা-বোনকে নিয়ে থাকতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই অভাবে দিন কাটছে তাদের। স্ত্রী শেফারী জানান, সংসারের এত মানুষের দায়িত্ব, তার উপরে ব্যাংকের ঋণ, সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে মানুষের কাছে ধারদেনা করতে হয়েছে। ঋণ পরিশোধের চাপে দিশাহারা হয়ে পরেছিলেন তার স্বামী।

ত্রিপুরায় বাম আমলে এই শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু আইনি জটিলতায় চাকরি হারান তারা। তবে স্কুল পরিচালনার জন্য সুপ্রিম কোর্ট তাদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়ার অনুমতি দেয়। ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি এই শিক্ষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তারপরও তারা কোনো নেয়নি বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।

পুরাতন রাজবাড়ী থানার কর্মকর্তা অর্জন চাকমা জানান, এত দিনেও চাকরি ফিরে পাওয়ার কোনো আশা-ভরসা না পেয়ে সম্প্রতি হতাশায় ভুগছিলেন উত্তম ত্রিপুরা। শুক্রবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। সদস্যরা তাকে দ্রুত নামিয়ে ফেলে। কিন্তু তাকে বাঁচানো যায়নি। শনিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুপুরে তার শেষকৃত্য হয়।

গ্রামেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কিন্তু তার আগে চিতার উপরে শুয়ে স্ত্রী শেফালী বলেন, ‘যারা আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের বিচার করতে হবে। আমাকেও স্বামীর সঙ্গে একই চিতায় পুড়িয়ে ফেল তোমরা।’ তার এই কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। পরে অনেক কষ্টে শেফালীকে চিতা টেনে তুলে আনা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয়রাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।