নিয়ম না মানলে খেলার দরকার নেই, ভারতকে হুঁশিয়ারি অস্ট্রেলিয়ার

করোনাবিধি ভঙ্গ করায় রোহিত শর্মা, রিশাভ পান্তসহ পাঁচ ক্রিকেটারকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলতি বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির চতুর্থ ম্যাচ ঘিরে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

করোনা বাস্তবতায় খেলোয়াড়দের নিয়ম ভঙ্গ করার বিষয়টি মোটেও ভালোভাবে নেয়নি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রশাসন।

আগামী ৭ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। মাঠের খেলায় দুই দল যখন ১-১ সমতায়, তখন বাকি দুই ম্যাচের উত্তেজনা থাকার কথা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে মাঠের বাইরের ঘটনায় বারবার বদলাচ্ছে অবস্থা।

অস্ট্রেলিয়ার করোনা পরিস্থিতি নতুন করে খারাপের দিকে এগুতে থাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার। করোনা সতর্কতার কারণে নিজেদের সীমানা বন্ধ করে দিয়েছে কুইন্সল্যান্ড সরকার। যে কারণে এখন শেষ ম্যাচ খেলতে ব্রিসবেনে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়দের থাকতে হবে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে। পূর্ব ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সিডনি টেস্ট শেষে ১৫ জানুয়ারিতেই ব্রিসবেনে খেলার কথা দুই দলের।

তবে, ভারতের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, যদি কুইন্সল্যান্ড গিয়ে আবারও হোটেলে বন্দী অবস্থায় থাকতে হয়, তাহলে তারা সেখানে চতুর্থ ম্যাচ খেলতে রাজি নয়। এর চেয়ে বরং সিডনি বা অন্য কোথাও চতুর্থ ম্যাচ খেলে সিরিজটি শেষ করার পক্ষে তারা।

জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে ভারতীয় দলের এক সূত্র জানিয়েছেন, আমরা অস্ট্রেলিয়া আসার আগে দুবাইয়ে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করেছি। বন্দী অবস্থায় থাকা খুবই কঠিন বিষয়। আমরা ব্রিসবেনে খেলার পক্ষে নই, যদি আবারও মাঠে নামার বদলে হোটেলে আটকা থাকতে হয়। অন্য কোথাও সিরিজটি শেষ করে নেয়া যায়।

কুইন্সল্যান্ড সরকারের স্বাস্থ্য ছায়া মন্ত্রী রস বেটস বলেছেন, ভারতীয় যদি নিয়ম মেনে খেলতে রাজি না হয়, তাহলে তাদের আসার দরকার নেই। একই কথা ক্রীড়া ছায়া মন্ত্রী টিম মেন্ডারের মুখেও।

ক্রীড়া ছায়া মন্ত্রী টিম মেন্ডার বলেছেন, ভারতীয় দল যদি নিয়ম অমান্য করতে চায় এবং কোয়ারেন্টাইন বিধি না মানে, তাহলে তাদের চতুর্থ টেস্ট খেলতে আসার দরকার নেই। একই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য।

উল্লেখ্য, ভারতীয় দলের এমন মন্তব্যের পরও কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি কুইন্সল্যান্ড সরকার। উল্টো তারা আরও শক্তভাবে বলে দিয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের নিয়ম মানতে না পারলে ভারতের খেলার কোনও দরকার নেই। প্রয়োজনে ব্রিসবেনে খেলা হবে না, তবু নিয়মে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।