ডায়বেটিস বাড়ার মূল কারন

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরে অনেক জটিল সমস্যা বাসা বাঁধতে পারে। তার উপর বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ডায়াবেটিস মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজের অজান্তেই এমন কিছু অভ্যাস আমাদের জীবনে চলে এসেছে যার ফলে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রে তা ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে।

আমরা অনেকেই শুয়ে বসি থাকি বেশিরভাগ সময়। টিভি দেখি, কোমল পানীয় খায় আবার মাঝেমধ্যে না খেয়ে থাকি। কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং এই অভ্যাসগুলো তার মধ্যে থাকে তবে এখনই বাদ দিন। কারণ দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ে এবং এ থেকেই বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

সমীক্ষায় জানা গেছে, মাত্র বছর খানেক টানা নাইট ডিউটি করলে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ, ৩ থেকে ৯ বছর করলে ২৩ শতাংশ ও ১০ বছর পেরিয়ে গেলে ৪২ শতাংশের মতো। এর প্রধান কারণ মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমে যাওয়া। যার ফলে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।

কোমল পানীয়তে থাকে কর্ন সিরাপ, যা নিয়মিত খেলে রক্তে ফ্রুকটোজের পরিমাণ বাড়ে। এর ফলে হুট করে বেড়ে যেতে পারে ওজন।এছাড়া যেসব ফলের রস বাজারজাত করা হয় সেগুলোতেও সুগার থাকে। এতে করে কমতে থাকে ইনসুলিনের কার্যকারিতা।

ব্রাউন সুগার, মধু বা গুড়ের ক্যালোরি চিনির চেয়ে কম। কাজেই মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে মাঝেমধ্যে এগুলো খেতে পারেন তবে নিয়মিত না খাওয়ায় ভালো।

আপাতদৃষ্টিতে আলু খারাপ মনে হলেও চাল বা আটের তুলনায় আলু ভালো। আলুতে আছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা সুগার কমাতে সাহায্য করে। তবে এর আবার গ্লাইসিমিক ইনডেক্স বেশি খেলে সুগার বেড়ে যেতে পারে। এজন্য পরিমিত খেতে হবে।

রক্তচাপ বেশি থাকলে কফি কম খান। কারণ রক্তচাপ বেশি হলে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা এমনিই বাড়ে, তার উপর কফি খাওয়ার ফলে গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়ায় গোলমাল হলে তা আরও বাড়বে।

নিয়মিত এক ঘণ্টা টানা টিভি দেখলে ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ে প্রায় ৩.৪ শতাংশ। সারাদিন টিভি দেখলে ওজন ও ভুঁড়ি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
করণীয়:

সকালে ভাল করে নাস্তা করুন।
খাওয়ার পর হাটার অভ্যাস করুন। না পারলে রাতে কম করে খান। ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করুন।
সতর্ক থাকুন ক্যালোরির ব্যাপারে।
ফলের রসের বদলে ফল খান।

চিনির বদলে আর্টিফিসিয়াল সুইটনার খাবেন না। কারণ এতে ব্রেন তৃপ্ত হয় না বলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা আরও বেড়ে যায়।

টিভি দেখুন কাজ করতে করতে। বিজ্ঞাপন বিরতিতে, সম্ভব হলে একটু ঘুরে নিন।
দুপুরে খাওয়ার পর ১০–১৫ মিনিটের বেশি ঘুমোবেন না।
রক্তচাপ বেশি থাকলে ধূমপান ও ওজনের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন।