মালয়েশিয়া আবারো অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়েছে!

“এজন্য সম্প্রতি একটি ‘রিক্যালিব্রেশন’ কর্মসূচি চালু করেছে দেশটি। গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। এর আগে, ২০১৬ সালে ‘রি-হায়ারিং’ নামে একটি বৈধকরণ কর্মসূচি দিয়েছিল তারা। এ সুযোগ নিয়ে বৈধভাবে অবস্থান করার জন্য ‘সোর্স কান্ট্রি’ হিসেবে পরিচিত ১৫টি দেশের নাগরিকদের অনুরোধ করেছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।”

এটি মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী এবং নিয়োগকর্তাদের শৃঙ্খলিত করতে সরকারের একটি প্রচেষ্টা। শ্রমিকদের বৈধকরণের বিষয়ে ১৫টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সামনে এক বৈঠকে প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দেশটির ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক সেরি খায়রুল দাজাইমি দাউদ। এর আওতায় বৈধ হতে নির্দিষ্ট শর্ত আরোপ করে কিছু যোগ্যতা চেয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যেমন- যারা বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় এসে ভিসায় উল্লেখিত নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করছেন কিন্তু ভিসা রিনিউ করেননি বা ওভার স্টে হয়েছে,

যারা নিজ কোম্পানিতে কাজ করেননি এবং যারা নিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠান থেকে পালিয়ে গেছেন তারা এই প্রক্রিয়ায় বৈধ হতে পারবেন। তবে, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যারা এমন অনিয়ম করেছেন তারাই এই সুযোগ পাবেন। এর পরবর্তী সময়ে কেউ এসব অপরাধ করলে তারা এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাবেন না।

২০১৬ সালে ঘোষিত ‘রি-হায়ারিং’ বৈধকরণ কর্মসূচির সঙ্গে চলমান এই রিক্যালিব্রেশনের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি বুঝতে না পারলে রয়েছে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি। যেমন- রিহায়ারিংয়ে নৌ, সাগর বা স্থলপথে অবৈধভাবে যারা অনুপ্রবেশ করেছিল তাদেরকেও বৈধতা দিয়েছিল দেশটি। এবার সে সুযোগ নেই। সেবার বিভিন্ন ভিসাধারীদেরকেও সুযোগ দেয়া হয়েছিল। এবার সুনির্দিষ্ট করে ‘পিএলকেএস’ উল্লেখ করা হয়েছে এবং অবশ্যই বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের প্রমাণপত্র থাকতে হবে।

রিহায়ারিং প্রক্রিয়ায় ভেন্ডর বা এজেন্ট ছিল। প্রতারণার ঘটনা ঘটায় এবার কোনো ভেন্ডর বা এজেন্ট নিয়োগ করেনি দেশটির সরকার। নতুন এই প্রক্রিয়া প্রচার করা হচ্ছে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজে। এবার কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা সরাসরি ইমিগ্রেশনে কর্মীদের নামের তালিকা জমা দিয়ে বৈধতার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। কোম্পানি নিয়োগ করতে পারবে কি না তা যাচাই করবে সরকারের লেবার ডিপার্টমেন্ট।

অর্থাৎ, বিদেশি কর্মীর কোটা না থাকলে নিয়োগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নিয়ে সটকে পড়তে পারবে না কোনো নিয়োগকর্তা। রিহায়ারিংয়ের সময় অনেক ভুয়া ও ভুঁইফোড় কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা বৈধকরণের নামে প্রতারণা করেছিল। তাই সেবার হাজার হাজার কর্মী প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অনেক প্রতারক হাজার হাজার কর্মীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে রাতারাতি পালিয়ে গিয়েছিল।

পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসায় ওইসব অভিযুক্তকে খুঁজে পায়নি মালয়েশিয়া পুলিশ। যদিও হাইকমিশন থেকে সতর্ক করে লিফলেট, টেলিভিশন এবং অন্যান্য মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল, সংবাদমাধ্যমগুলো নিয়মিত সতর্কবার্তা প্রচার করেছিল। কিন্তু দালাল ও প্র’তারকদের চটকদার কথা এবং কর্মীদের নিজেদের তথ্য গোপন করার ফলে সহজেই প্রতারিত হতে হয়েছে। এবার তাদের বৈধ হওয়ার জন্য বিশেষ সুযোগ দেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, এ ধরনের কাজে আর্থিক লেনদেন দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রতারিত ব্যক্তি চাইলে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারেন। এর আগে এসব অভিযোগ অনেকে মামলাও করেছিলেন।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাক্ষী-প্রমাণ না থাকা বা বাদীর অসহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত সুরাহা হয়নি অনেক অভিযোগ। তবে মালয়েশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ অনুসন্ধান করে প্রতারকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিসা করে দেয়ার নামে মালয়েশিয়ায় প্রতারিত হন অনেক প্রবাসী কর্মী। অভিবাসন বিষয়ক সাংবাদিক মিরাজ হোসেন গাজী বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী অবৈধ হয় প্রতারণার মাধ্যমে যেমন, বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে কর্মী ভাগিয়ে আনা, পরিচিত কারও কাছ থেকে শুনে বেশি আয়ের লোভে অন্যত্র চলে যাওয়া, কাজ পছন্দ না হওয়ায় পালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

তাই দেশ ছাড়ার আগেই কর্মীদের এসব বিষয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে অন্তত নিজের ভালোটুকু তারা বুঝতে পারে। ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বৈধতা প্রত্যাশীদের সতর্ক করে দিয়েছে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস।

এদিকে, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বৈধকরণ কর্মসূচির আওতায় কর্মী নিতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে প্ল্যান্টেশন ও কৃষি সেক্টরের অ্যাসোসিয়েশন কর্মী সঙ্ক’টে থাকার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরেও অনেক কর্মী প্রয়োজন। ব্যয়বহুল কনস্ট্রাকশন সেক্টর করোনার প্রভাবে মন্দাবস্থা চলছে। এই চারটি সেক্টরেই শুধু বৈধকরণ চলছে।