বোথামের বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার সামনে সাকিব

রেকর্ড ভাঙা আর গড়ার খেলাটা সাকিব আল হাসানের জন্য নতুন কিছু নয়। ব্যাট-বল হাতে তার পারফরম্যান্স তো বহুকাল আগেই বিশ্বনন্দিত।

ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদদের ব্যস্ত সময় এমনিতেই পার করতে হয় হয়; তাদের লিখতে হয় একের পর এক রেকর্ড।

তবে এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, তাদের নিয়ে পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা মানুষদের আলাদাভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়। তারা কখন কি রেকর্ড করে বসেন তার তো আর ঠিক নেই! সাকিবের ক্ষেত্রে যেন বিষয়টি খুব ভালোভাবেই প্রযোজ্য। রেকর্ডের বরপুত্র টাইগারদের এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় যেন হয়ে উঠছেন কিং অব ক্রিকেট।

ক্যারিয়ারের শেষে নিজের অর্জন গুলোকে কোন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন সাকিব, সেটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে জ্যাক ক্যালিস, ইয়ান বোথাম, গ্যারি সোবার্সদের মতো গ্রেট অলরাউন্ডারদের টপকে যাওয়ার সুযোগ সুপার-৭৫ পেয়ে যাচ্ছেন।

মাত্র পাঁচজন অলরাউন্ডারের টেস্টে ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেট আছে। তাদের প্রত্যেকেই ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ডারের আসনে বসে আছেন। বল হাতে সাদা পোশাকে ২০০ উইকেট পাওয়া সাকিবের ব্যাট হাতে ৪ হাজারি ক্লাবে ঢুকতে আর মাত্র ১৩৮ রান দরকার।

তবে একটি জায়গায় অনন্য হিসেবেই এই মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে স্যার ইয়ান বোথামের লেগেছিল ৬৯ ম্যাচ, এটিই এখন পর্যন্ত দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শ করার রেকর্ড।

এই মাইলফলকে পৌঁছাতে স্যার গ্যারি সোবার্সের ৮০, ভারতীয় অলরাউন্ডার কপিল দেবের ৯৭, ড্যানিয়েল ভেট্টরির ১০১ ও জ্যাক ক্যালিসের লেগেছিল ১০২ ম্যাচ।

সেখানে সাকিব আল হাসান বড় ব্যবধানেই সবাইকে পেছনে ফেলতে যাচ্ছেন, গড়তে চলেছেন বিশ্বরেকর্ড। বাংলাদেশের হয়ে ৫৬ টেস্ট খেলা সাকিব ২১৪ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৩ হাজার ৮৬২ রান। দ্রুততম হিসেবে ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেট পাওয়া স্যার ইয়ান বোথামকে পেছনে ফেলতে ১২ ম্যাচ হাতে পাচ্ছেন টাইগার সুপারস্টার।

সাকিবকে ১২ ম্যাচ অপেক্ষা করতে হবে না, সেটা বাজি ধরেই বলে দেয়া যায়।

সেক্ষেত্রে সবাইকে ছাপিয়ে দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ৪ হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ডাবলসের রেকর্ড তিনি অনায়াসেই নিজের করে নিতে চলেছেন। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামই হতে পারে মি. অলরাউন্ডারের সেই কীর্তির সাক্ষী।