বাংলাদেশের পর দ. আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ পাকিস্তানের

ঘরের মাঠে ২০০৩ সালে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের পর এবারই প্রথম কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান।

দ্বিতীয় টেস্টে হাসান আলীর ১০ উইকেটের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯৫ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে প্রোটিয়াদের ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ দিয়েছে পাকিস্তান।

এই টেস্টে ৩৭০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান। পঞ্চম দিন জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৯ উইকেট হাতে রেখে ২৪৩ রান। হাসানের অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে ৩৩ রানের মধ্যেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে কুইন্টন ডি ককের দল।

ফলে ৯৫ রান বাকি থাকতেই দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই পরাজয়ের ফলে গত ৫ টেস্ট সিরিজের ৪ টিতেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে তাদের। এছাড়া গত ১৩ টেস্টের ১০ টিতেই হেরেছে প্রোটিয়া বাহিনী।

এমন ভরাডুবির পরেও দারুণ ব্যাট করছেন দলটির ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করাম। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম আবারো সেঞ্চুরির দেখা পেলেন তিনি। যা তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি এবং উপমহাদেশের উইকেটে প্রথম। ৩৭০ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম দিনের শুরুতেই রসি ভ্যান ডার ডাসেনের উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

আগের দিনের ৪৮ রানের সঙ্গে কোন রান যোগ না করেই হাসানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। ডাসেনের পর ব্যাট করতে এসে হাসানের বোলিং তোপে বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি ফাফ ডু প্লেসিসও। মাত্র ৫ রান করে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন তিনি। এরপর সেঞ্চুরি করা মার্করামকেও ফেরান ঐ হাসানই।

ফলে ২৪১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে সফরকারীরা। দলকে খাঁদের কিনারা থেকে তুলতে গিয়ে হাসানের প্রথম বলেই ফিরে যান ডি ককও। ফলে হ্যাট্রিকের সম্ভবনা জাগে এই ডানহাতি পেসার। ডি কক আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়তে থাকে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন আপ। দলীয় ২৫৩ রানে মাথায় টেম্বা বাভুমাকে ফেরান শাহিন আফ্রিদি। এরপর আর কেউই পাকিস্তান বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। বাভুমা ৬১ রান করে ফিরে যান।

জর্জ লিন্ডেকে ৪ রানে ফিরিয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট শিকার করার গৌরব অর্জন করেন হাসান। এরপর আর কেউ বলার মতো রান করতে পারেননি। ৩৩ রানের মধ্যেই শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে শোচনীয় পরাজয় বরণ করে নিতে হয় ডি ককের দলকে। পাকিস্তানের হয়ে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট পেয়েছেন হাসান। আর আফ্রিদির শিকার ৪ টি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান (১ম ইনিংস): ২৭২/১০ (ওভার ১১৪.৩) (ফাহিম ৭৮, ফাওয়াদ ৪৫, নরকিয়া ৫/৫৬, মহারাজ ৩/৯০)।

দক্ষিণ আফ্রিকা (১ম ইনিংস): ২০১/১০ (৬৫.৪ ওভার) (বাভুমা ৪৪*, ডি কক ২৯, মুল্ডার ৩৩, লিন্ডে ২১; আফ্রিদি ১/৩৭, হাসান ৫/৫৪, ফাহিম ১/২০, নওমান ১/৩৬)।

পাকিস্তান (২য় ইনিংস): ২৯৮/১০ (১০২ ওভার) (রিজওয়ান ১১৫*, নওমান ৪৫, আজহার ৩৩, লিন্ডে ৫/৬৪, মহারাজ ৩/১১৮)।

দক্ষিণ আফ্রিকা (২য় ইনিংস): ২৭৪/১০ (ওভার ৯১.৪) (মার্করাম ১০৮, বাভুমরা ৬১, ভ্যান ডার ডাসেন ৪৮, হাসান ৫/৬০, আফ্রিদি ৪/৫১)।

ফলাফল : পাকিস্তান ৯৫ রানে জয়ী।