চলছে বউ মেলা, যেতে পারবেন না জামাই’রা

জামাই মেলার পর এবার বগুড়ায় শুরু হচ্ছে বউ মেলা। মেলায় একমাত্র দোকানি ছাড়া আর কোনও পুরুষ ঢুকতে পারবে না। এ কারণে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের পছন্দ মত জিনিস কিনতে পারেন নারীরা।

মেলা উপলক্ষে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা আনন্দ উৎসব। এলাকার নতুন বউসহ নারী-শিশু দলে দলে আসছেন এ মেলায়।
বৃহস্পতিবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গোলাবাড়ী বাজার সংলগ্ন ইছামতি নদীর তীর সংলগ্ন মহিষাবান গ্রামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা। গত ২৮ বছরের মত এবারও পোড়াদহ মেলার দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ মেলা।

এ বউ মেলায় হরেক খেলনা ও পণ্যের পসরা সাজিয়ে মেলায় দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন দোকানিরা। পুরুষবিহীন মেলায় স্বাচ্ছন্দ্যে পছন্দমত জিনিস কিনতে পেরে খুশি নারীরা।

১০ বছরের ববি জানায়, মেলায় চুড়ি মালা ফিতা কিনেছে। নাগরদোলায় উঠেছে। আরো কিছুক্ষণ পর বাড়িতে যাবে। মেলায় পুরুষ দোকানির পাশাপাশি নারীরাও দোকান খুলে বসেছেন। সকাল থেকে বেচা বিক্রিতে সন্তুষ্ট দোকানিরা।

স্থানীয়রা জানায় মেলা উপলক্ষে সদ্য বিয়ে হয়েছে এমন মেয়েরা স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি নাইওর আসে। কেউ বা আসে স্বামী, সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে। অন্য কোনো উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই, তবে মেলা উপলক্ষ্যে দাওয়াত দেওয়া বাধ্যতামূলক। এ যেন মহিষাবান গ্রামের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মেলা দু’দিনের জন্য হলেও মেলার আমেজ থেকে যায় সপ্তাহব্যাপী।

নিরাপত্তা নিয়ে বেশ সজাগ এলাকাবাসী। আয়োজক কমিটির সদস্যরা নিজেরা সব ধরনের দায়িত্ব পালন করছে নারী শিশুদের নিরাপত্তার বিধানে।

আয়োজক কমিটির সভাপতি জাজেদুর রহমান জানান, ২৮ বছর ধরে এলাকার নারীদের সম্মান রক্ষা এবং নির্বিঘ্নে কেনা কাটার সুবিধার কথা চিন্তা করে এ মেলার আয়োজন করা হয়। একদিনের এ মেলায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা বেচাকেনা হয়।