৯ গোলের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এভারটনের জয়

নয় গোলের উত্তেজনাকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে এফএ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে এভাটরন।

এদিকে সোয়ানসি সিটিকে সহজেই ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটে পৌঁছে গেছে ম্যানচেস্টার সিটিও।

শনিবার প্রিমিয়ার লিগে টেবিলের শীর্ষে থাকা সিটি সফরে যাবে স্পার্সরা। তার আগে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসতে না পারাটা হোসে মরিনহোর দলকে মানসিক ভাবেও অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই পরাজিত হয়েছে স্পার্সরা। এর মধ্যে কালকের বিদায়ে ১৩ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে এফএ কাপের সাফল্যও এখন তাদের কাছে অতীত।

৫-৪ গোলের পরাজয়টাকে ‘হকি স্কোর’ বর্ণনা করে মরিনহো বলেছেন, ‘সুযোগ তৈরীর থেকে রক্ষনভাগের ভুল যদি কম হয় তবে একমাত্র আক্রমনাত্মক ফুটবল দিয়েই ম্যাচ জয় করা সম্ভব। কালকের ম্যাচটি ছিল ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ের মত। ইঁদুর ছিল আমাদের রক্ষনভাগের ভুল আর বিড়াল ছিল আমাদের পারফরমেন্স। আমরাও গোল করেছি। কিন্তু সেগুলো জয়ের জন্য যথেষ্ঠ ছিলনা।’

গুডিসন পার্কে মরিনহোর দলের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল। ম্যাচের তিন মিনিটেই ডেভিনসন সানচেজের গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে রক্ষনভাগের ভুলে বেশ কিছু ম্যাচে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে টটেনহ্যামকে। কালও তার ব্যতিক্রম ছিলনা। সেই সুযোগে বিরতির আগে ডোমিনিক কালভার্টÑলুইন, রিচারলিসন ও গিলফি সিগার্ডসনের গোলে সাত মিনিটে তিন গোল দিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এভারটন। প্রথমার্ধের স্টপেজ টাইমে এরিক লামেলা ও ৫৭ মিনিটে সানচেজের দ্বিতীয় গোলে সমতায় ফিরে স্পার্সরা।

৬৮ মিনিটে আবারো এভারটনকে এগিয়ে দেন রিচারলিসন। গোঁড়ালির ইনজুরি কাটিয়ে কাল বদলী খেলোয়াড় হিসেবে দলে ফিরেছিলেন হ্যারি কেন। সন হেয়াং-মিনের ক্রস থেকে বুলেট হেটে ইংলিশ এই অধিনায়কের হেডে ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে আবারো সমতায় ফিরে টটেনহ্যাম। কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল। ৯৭ মিনিটে সিগার্ডসনের স্কুপ পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এভারটনকে দারুন এক জয় উপহার দেন বার্নার্ড। এর মাধ্যমে ১৯৯৫ সালের পর প্রথম কোন শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এখনো টিকে থাকলো টফিসরা।

ম্যাচ শেষে এভারটনের সহকারী ম্যানেজার ডানকান ফার্গুসন বলেছেন, ‘এটা সকলের জন্যই একটি লম্বা রাত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জয় নিয়ে বাড়ি ফিরেছি এটাই মূল বিষয়।’

লিবার্টি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সোয়ানসি সিটিকে পরাজিত করতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি সিটিকে। কাইল ওয়াকার, রাহিম স্টার্লিং ও গাব্রিয়েল জেসুসের গোলে সোয়ানসি সিটিকে ৩-১ গোলে পরাস্ত করে শেষ আট নিশ্চিত করেছে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিটি। এ নিয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় টানা ১৫ ম্যাচ জয় নিশ্চিত করেছে পেপ গার্দিওলার দল।

সিটি বস হিসেবে ২৬৮ ম্যাচে এটি গার্দিওলার ২০০তম জয়। তার দল এখনো ঐতিহাসিক কোয়াড্রাপল শিরোপা জয়ের পথে ভালভাবেই টিকে রয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পিছনে ফেলে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিটিজেনরা। এপ্রিলে লিগ কাপ ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ টটেনহ্যাম। এছাড়া চলতি মাসের শেষে বরুসিয়া মনচেনগ্ল্যাডবাখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেস ১৬’র প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে।

ইংলিশ শীর্ষ লিগসহ অন্যান্য সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১৫ ম্যাচে জয়ী হওয়া একটি রেকর্ড। এ সম্পর্কে গার্দিওলা বলেছেন, ‘এটা সত্যিই দারুন এক অনুভূতি। এই মুহূর্তে আমরা যে কতটা গর্বিত ও আনন্দিত তা বলে বোঝানো যাবেনা। আধুনিক যুগে টানা ১৫টি জয় তুলে নেয়া মোটেই সহজ কাজ নয়।’

৩০ মিনিটে কাইল ওয়াকার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। বিরতির পরপরই ব্যবধান দ্বিগুন করেন স্টার্লিং। ৫০ মিনিটে বার্নান্ডো সিলভার এসিস্টে জেসুস ব্যবধান ৩-০’তে নিয়ে যান। ৭৭ মিনিটে ২০ বছর বয়সী ইংলিশ এ্যাটকার মরগান হুইটেকারের গোলে এক গোল পরিশোধ করতে সক্ষম হয় সোয়ানসি।

দিনের আরেক ম্যাচে ব্রাইটনের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে লিস্টারের ৯৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে কেলেচি ইহেনাচোর গোলে লিস্টারের শেষ আট নিশ্চিত হয়। ব্রামাল লেনে বিলি শার্পের পেনাল্টিতে ব্রিস্টল সিটিকে ১-০ গোলে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড