গোনাহ থেকে বাঁচার উপায়

লজ্জাশরম মানুষের ভুষণ। যার শরম নাই সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমার যদি শরম না থাকে তাহলে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে।’

আর লজ্জার মাধ্যমেই সবপ্রকার গোনাহ থেকে বাঁচা সম্ভব। একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামদেরকে লক্ষ করে বললেন, তোমরা আল্লাহকে শরম করো। এর উত্তরে সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বললেন, আলহামদুলিল্লাহ আমরা তো আল্লাহকে শরম করি।

তখন হুজুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আল্লাহকে শরম করার অর্থ সেটা নয় যেটা তোমরা মনে করছো; বরং আল্লাহকে শরম করার অর্থ হলো- তোমার মাথা এবং তার আশপাশের অঙ্গগুলো হেফাজত করবে। তোমার পেট এবং তার আশপাশের অঙ্গগুলোকে হেফাজত করবে। আর মৃত্যু ও তার পরবর্তী অবস্থার কথা বেশি বেশি স্মরণ করবে।’ (তিরমিজি শরীফ)

সুতরাং আল্লাহতায়ালাকে লজ্জা করতে হবে আমাদের। আর আল্লাহকে লজ্জা করার অর্থ হলো উপরিউক্ত তিনটি বিষয় মেনে চলা। কেননা আমরা যখন কোন গুনাহ করি তখন দুনিয়ার কোন মানুষ যদিও না দেখে, আল্লাহ কিন্তু দেখছেন। আমি আমার মাথায় যে জিনিসটা চিন্তা করছি। কারো ক্ষতি করার প্লেন করছি। কারো হক নষ্ট করতে ভাবছি। সবকিছুই আর কেউ জানুক বা না জানুক আল্লাহ ঠিকই দেখছেন এবং জানছেন। আমার চোখের ইশারায় কাকে কষ্ট দিচ্ছি। মুখ দিয়ে কাকে গালি দিচ্ছি। গিবত করছি। সবই আল্লাহ দেখছেন। আমরা যত গোপনেই গুনাহ করি না কেন আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়।

তাই, যদি আমরা প্রকৃতভাবে আল্লাহকে লজ্জা করি তাহলে গোপনে বা প্রকাশ্যে কখনো কোনো গুনাহ হবে না। মাথা এবং তার সাথে সম্পৃক্ত অঙ্গগুলো; যেমন- চোখ, কান, নাক, মুখ ইত্যাদি সব সময় গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চোখ দিয়ে এমন কিছুই দেখা যাবেনা যেটা আল্লাহ ও রাসুল দেখতে নিষেধ করেছেন। কান দিয়ে এমন কিছু শুনা যাবেনা, যা শুনা নিষেধ করা হয়েছে। মুখ দিয়ে এমন কোনো কথা বলা যাবে না, যা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। গিবত করা যাবে না, চুগলখোরি করা যাবে না, কাউকে গালি দেওয়া যাবে না, কটু কথা বলা যাবেনা ইত্যাদি।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে : পেট এবং তার সাথে সম্পৃক্ত অঙ্গগুলোকে গুনাহ থেকে হেফাজত করা। তথা পেটকে হারাম রিজিক থেকে হেফাজত করা। এই পেটে যেন কোনো হারাম রিজিক প্রবেশ না করে। ঘুষ, ধোঁকাবাজি বা ঠকবাজির রিজিক যেন আমার পেটে না যায়। আমার পরিবারের কারো জন্য যেন আমি হারাম রিজিক উপার্জন না করি। আমার পরিবারকে একটু ভালো রাখতে গিয়ে বা ভালো খাওয়াতে গিয়ে যদি আমি হারাম রিজিক উপার্জন করি তাহলে এর হিসাব আল্লাহতায়ালার কাছে আমাকেই দিতে হবে। আমার পরিবারের কেউ এর হিসেব দিবে না। এই পাপের বোঝা আমাকেই বহন করতে হবে। অন্য কেউ এই বোঝা নেবে না।

আর হারাম রিজিক পেটে গেলে কোনো ইবাদত কবুল হবে না। কোনো দোয়াও কবুল হয় না। পেটের সাথে সম্পৃক্ত অঙ্গ হলো লজ্জাস্থান। এই অঙ্গকেও সব গুনাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এর সাথে সম্পৃক্ত আরো যত গুনাহ আছে সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকতে হবে। প্রকাশ্য ও গোপন সর্বাবস্থায় এই সব গুনাহ থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে হবে। আমরা যদি এই ক্ষেত্রে আল্লাহকে প্রকৃত অর্থে শরম করতে পারি তাহলে সমাজ থেকে ধর্ষণ, পরকীয়া ও ইভটিজিং-এর মতো মারাত্মক সামাজিক ব্যাধির মূলোৎপাটন হয়ে যাবে। আমরা মানুষ থেকে আড়াল হতে পারব কিন্তু আল্লাহ থেকে তো দূরে যেতে পারব না।

তৃতীয় বিষয় হলো- মৃত্যু এবং এর পরবর্তী অবস্থার কথা বেশি বেশি স্মরণ করা। এই পৃথিবীটা ক্ষণস্থায়ী। সবাইকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। আর মৃত্যুর পর আল্লাহতায়ালার সামনে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। পুরো জীবনের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। আমার জীবন কোথায় ব্যয় করেছি। আমার যৌবন কোথায় নষ্ট করেছি। আমার সম্পদ কিভাবে অর্জন করেছি আর কোথায় খরচ করেছি এই সবকিছুর হিসাব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দিতে হবে। কেউ আমার হয়ে কিছুই করতে পারবে না। আমার কবরে আমাকেই যেতে হবে। আমার কর্মের হিসাব আমাকেই দিতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে সবপ্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দান করুন।