মৃত্যুর আগে হাতে শাশুড়ির যন্ত্রণার যে সব কথা লিখে গেলেন গৃহবধূ

শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া করে এক গৃহবধূর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় শাশুড়িকে আটক করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, নিহত আছমা বেগম (২০) মধ্যপ্রাচ্যের সৌদিতে থাকতেন। তার গ্রামের বাড়ি ভুনবীর ইউনিয়নের আলিশারকুল গ্রামে। তিনি আব্দুল মতলিবের মেয়ে। করোনাকালীন সময়ে দেশে এসে অলিলা গ্লাস কোম্পানিতে চাকরি নেন। চাকরির সুবাদে পাশের গ্রামের আব্দুল হামিদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে পাঁচ মাস আগে দু’জন ভালোবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু তার মা সে বিয়ে মেনে নেননি।

পরবর্তীতে গ্রামের মুরব্বিরা মিলে বিষয়টি সমাধান করে দিলে তিন মাস থেকে তিনি স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি রহিমা বেগমের সঙ্গে আছমার ঝগড়া লেগেই ছিল।

প্রতিবেশী আব্দুল আহাদ ও মালেক মিয়া জানান, বিষয়টি তারা সমাধান করে দিলেও শাশুড়ি মন থেকে মেনে নিতে না পারায় প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকতো। মেয়েটি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলেও জানান তারা।

তারা বলেন, মেয়েটি শাশুড়ির যন্ত্রণা সইতে না পেরে মারা গিয়েছে। মেয়েটি মারা যাবার আগে হাতে লিখে রাখে স্বামীর মায়ের যন্ত্রণা সইতে না পেরে তিনি মারা গেছেন। তারা বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালেক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিঙ্গাসাবাদের জন্য ছেলে ও ছেলের মাকে আটক করা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করলে সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।