ফেসবুকের কল্যাণে ৮ মাস পর হারানো বাবাকে ফিরে পেলেন ছেলে

প্রায় সাড়ে আট মাস আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন বাবা। হারানো বাবাকে খুঁজতে বহু জায়গায় ঘুরেছেন সন্তানেরা। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাননি জন্মদাতা বাবাকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ শেরপুর ৩৬০ ডিগ্রির কল্যাণে বাকপ্রতিবন্ধী শুক্কুর আলীকে (৫২) তার ছেলে সাকিবের কাছে শুক্রবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় হস্তান্তর করেছেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাবাকে পাওয়ার পর নিজ বাড়ি টাঙাইল জেলার ভুঞাপুর থানার মাহাদীপুর এলাকায় এখন খুশির বন্যা বইছে। শুক্কুর আলী ওই এলাকার মৃত ময়েজ মণ্ডলের ছেলে।

বাবাকে ফিরে পাওয়ার পর সাকিব বলেন, বাবা একদিন হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে হারিয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও উনাকে পাওয়া না গেলে আমরা আশা হারিয়ে ফেলি। কারণ উনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। দীর্ঘ আট মাস পর হঠাৎ করে শেরপুর ৩৬০ ডিগ্রি ফেসবুক পেজে বাবার ছবি দেখি। এরপর তৎক্ষণাৎ সদর থানার ওসি মামুন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উনি আমাদের জানান যে বাবা বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। এ কথা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা শেরপুর সদর থানায় এসে বাবাকে পাই।

তিনি আরও বলেন, এত মাস পর বাবাকে ফিরে পেয়ে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। আনন্দে চোঁখে পানি এসে গিয়েছিল। এজন্য সবটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি শেরপুর সদর থানার ওসি মামুন ভাই ও শেরপুর ৩৬০ ডিগ্রি ফেসবুক গ্রুপ কর্তৃপক্ষের প্রতি।

জেলা ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রুবেল বলেন, লোকটিকে পরিবারের কাছে তুলে দিতে পেরে খুব খুশি লাগছে। একজন হারানো বাবাকে পেয়ে সন্তানের মুখে কী যে আনন্দ, তা আজ নিজ চোখে দেখলাম।

শেরপুর সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ১১ মার্চ ভোরে কয়েকজন ছেলে এই বৃদ্ধকে থানায় নিয়ে আসে। সমস্যা হলো সে কথা বলতে পারে না। তার ইশারা কিছুই বুঝা যাচ্ছিল না। অনেক চেষ্টা করে কিছুই বুঝতে পারিনি। এরপর রুবেল নামে এক যুবক উনার ছবি শেরপুর ৩৬০ ডিগ্রি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে। সেই পোস্ট দেখে বিকেলে লোকের আত্মীয় স্বজন আমাকে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে তারা রাতে থানায় হাজির হলে তাকে তার আত্মীয় স্বজন ও ছেলে সাকিবের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় শুক্কুর আলীর কাছে থাকা নগদ আট হাজার ৭৫০ টাকা তার ছেলে সাকিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।