অতিরিক্ত কফি পানে ডেকে আনে মারাত্মক বিপদ

অধিকাংশ মানুষই চা কিংবা কফি পানে অভ্যস্ত। অনেকেই চায়ের চাইতে কফি পান করতে বেশি পছন্দ করেন। নিজেকে চাঙা রাখতে কাজের ফাঁকে আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়ও কফি খাওয়া হয়।

এমন করে দিনে ছয় বা তার বেশিও কফি খেয়ে থাকেন অনেকেই। কিন্তু অতিরিক্ত কফি পান করা আপনার জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

সম্প্রতি গবেষকরা দেখেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী, অতিরিক্ত কফি পান আপনার রক্তে লিপিডের (চর্বি) সংখ্যা বাড়াতে পারে। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার “অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর প্রিসিশন হেলথ” কেন্দ্রের গবেষকরা বলছেন যে, দিনে ছয় বা তার বেশি কাপ কফি খেলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের (সিভিডি) ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

অধ্যাপক হিপোনেন এ বিষয়ে বলেন, “এই গবেষণায়, আমরা কফি গ্রহণ এবং প্লাজমা লিপিড প্রোফাইলের মধ্যে জেনেটিক এবং ফেনোটিপিক সম্পর্ক লক্ষ্য করেছি। রক্তে কোলেস্টেরল এবং চর্বি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমরা খুঁজে বের করেছি যে, অভ্যাসগত কফি খাওয়া একটি প্রতিকূল লিপিড তৈরিতে অবদান রাখে যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”

অধ্যাপক হিপোনেন আরো উল্লেখ করেন, “উচ্চ মাত্রার ব্লাড লিপিড হৃদরোগের জন্য একটি পরিচিত ঝুঁকি উপাদান। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যেহেতু কফি বীনের মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ কোলেস্টেরল উত্তোলন যৌগ (ক্যাফেস্টল) আছে, তাই অতিরিক্ত কফি গ্রহণ হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।”

ক্যাফেস্টল প্রধানত গ্রাউন্ড কফিতে বিদ্যমান, যেমন ফ্রেঞ্চ প্রেস, তুর্কি এবং গ্রীক কফি। এছাড়া এটি এসপ্রেসোতেও আছে, যা ল্যাটে এবং কাপুচিনো সহ অধিকাংশ কফি তৈরির ভিত্তি। তবে ফিল্টার করা এবং ইনস্ট্যান্ট কফিতে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাফেস্টল থাকে, তাই এসব কফি রক্তের লিপিডের উপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।

বিশ্বব্যাপী, প্রতিদিন আনুমানিক তিন বিলিয়ন কাপ কফি খাওয়া হয়। কার্ডিওভাসকুলার রোগ সারাবিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ, প্রতি বছর আনুমানিক ১৭.৯ মিলিয়ন মানুষ এতে মারা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত কফি স্পষ্টত কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়, যা অবশ্যই হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। তবে এক্ষেত্রে যদি না আমরা অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করি। যেমন পরিমিত কফি পান স্বাস্থ্যের তেমন কোনো ক্ষতি করে না। তাই যখন স্বাস্থ্যের কথা আসে, তখন সাধারণত মোডারেট লেভেলে কফি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।