কিডনি-লিভার সুরক্ষিত রাখতে জাদুকরী পানীয় ‘ডিটক্স ড্রিংকস’

একজন মানুষ সুস্থ থাকার জন্য সর্বদাই চেষ্টা করেন। তাইতো পুষ্টিকর খাবার ও নিজের যথেষ্ট যত্নও নিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের দেহের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশ হচ্ছে কিডনি ও লিভার।

যার ক্ষতি হলে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। জানেন কি, কিডনি ও লিভার সুরক্ষিত রাখতে ‘ডিটক্স ড্রিংকস’ এর উপকারিতা অনেক।

এই পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সঙ্গে শরীরের সব ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে ক্লিঞ্জার হিসেবেও কাজ করে। ‘ডিটক্স ড্রিংকস’ তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। আপনি খুব সহজে ঘরে থাকা কয়েকটি উপাদান দিয়েই তৈরি করে নিতে পারবেন ডিটক্স ওয়াটার বা ড্রিংস।

চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কীভাবে তৈরি করবেন ডিটক্স পানীয়-

‘ডিটক্স ড্রিংকস’ তৈরি পদ্ধতি : শুধু লেবু, পানি আর কয়েক টুকরো শসা দিয়েই তৈরি করে নিতে পারবেন আপনার ডিটক্স ওয়াটার। পানিতে লেবু ও শসার টুকরা দিয়ে সারারাত ফ্রিজে রেখে দিন। পরেরদিন সকাল থেকে সারাদিন যখনই পানি পানের প্রয়োজন হবে; তখনই ডিটক্স ওয়াটার পান করুন।

এ পানীয়টি ফাইবার সমৃদ্ধ। এছাড়াও এতে থাকা উপাদানগুলোর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি জানা আছে। তাই এটি হজম বাড়াতে এবং দেহের টক্সিনগুলো বের করে দিতে পারে।

ডিটক্স পানীয় পানের উপকারিতা

১. বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এ পানীয়।

২. এ পানীয়তে লেবু থাকার কারণে সহজে আপনি ডিহাইড্রেটেড হবেন না।

৩. নিয়মিত এ পানি সেবনে আপনার শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর হয়ে যাবে।

৪. লেবু মিশ্রিত এ ডিটক্স পানীয় খেলে আপনার লিভার ভালো থাকবে। লিভারে জমাট বাধা ক্ষতিকর পদার্থ যেমন- আয়রনসহ বিভিন্ন উপাদান, যা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর; সেগুলোও পরিষ্কার হবে।

৫. লেবু পানিতে খেলে ওজন কমে। কারণ লেবুতে প্রাকৃতিকভাবে পেকটিন ফাইবার থাকে, যা ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়।

৬. এ ডিটক্স পানীয় উদ্বেগ এবং হতাশার বিরুদ্ধে লড়বে। স্নায়ুতন্ত্রের উপর শান্ত প্রভাব ফেলে এ পানীয়।

৭. লেবু ও শসার এ পানীয় পান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে, যা নিয়মিত গ্রহণ করতে সংক্রমণজাতীয় বিভিন্ন রোগে থেকে নিস্তার মেলে।

৮. এ পানীয় রক্তকে ডিটক্সিফাই করে, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা ফ্রি র‍্যাডিডিকেল দূর করে ত্বকের বার্ধক্যজনিত প্রভাব দূর করে।

৯. কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে এ ডিটক্স পানীয়। লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিডের ফলে প্রস্রাবের গতি বেড়ে যায়। এতে কিডনিতে থাকা পাথর জমতে পারে না এবং মূত্রের সঙ্গে বেরিয়ে যায়।

এ পানীয় যেভাবে পান করবেন : রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর সকালে খালি পেটে এ ডিটক্স ওয়াটার পান করলে লিভারের কার্যকারিতা বাড়ে। খালি পেটে পান করার পাশাপাশি সারাদিনও আপনি এ পানীয় পান করতে পারবেন। নিয়মিত ডিটক্স পানীয় পান করার মাধ্যমেই আপনি এর সুফল টের পাবেন।