প্রেমিককে ‘কালো’ বলায় প্রেমিকাকে গলা কেটে হত্যা

সিলেট বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামে বসত ঘরের ভেতরে স্কুলছাত্রী নাজনিন আক্তারকে (১৮) গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র অভিযুক্ত নাজিম উদ্দিন পাশা

(২১) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

বুধবার (১৭ মার্চ) নাজিম উদ্দিন পাশা সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক লায়লা মেহের বানুর কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে খুনের কথা স্বীকার করেন পাশা।

আদালতের স্বীকারোক্তিতে নাজনিন আক্তারের সাথে দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানায় নাজিম উদ্দিন পাশা। সে আরও জানায়, তবে মাস তিনেক পূর্বে তাদের সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে যায়।

অন্যদিকে, সম্প্রতি বেশ কিছুদিন ধরে নাজনিনের পরিবারে তার বিয়ে নিয়ে কথাবার্তা চলছিল। এ নিয়ে নাজনিন আক্তার ও নাজিম উদ্দিন পাশার মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। পরে পারবারিকভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলে নাজনিন উত্তেজিত হয়ে সকলের সামনেই নাজিম উদ্দিন পাশাকে ‘কালো’ বলে কটাক্ষ করে এবং এতে অপমানিত বোধ করে নাজিম উদ্দিন পাশা।

তাছাড়া সম্প্রতি নাজিম উদ্দিনকে দেখে প্রায়ই ব্যঙ্গ করে কথাবার্তা বলতো ও টিটকারি করতো নাজনিন। এ নিয়েই মূলত নাজিম উদ্দিন পাশার মধ্যে ক্ষোভ জমে এবং সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে বাড়ির বাসিন্দাদের অগোচরে নাজনিনকে একা পেয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিজের বসতঘরে বসে টেলিভিশন দেখছিল স্কুল পড়ুয়া তরুণী নাজনিন আক্তার। বাড়ির সকলের অগোচরে সেই ঘরে ঢুকে পেছন থেকে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে দা দিয়ে গলায় কোপ দিয়ে তরুণীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে নাজিম উদ্দিন পাশা। খুন করার পর থেকেই পালিয়ে যায় সে।

এরপর অভিযুক্ত যুবক নাজিম উদ্দিন পাশাকে (২১) গ্রেপ্তার করতে আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় থানা পুলিশ। টানা ৯ ঘণ্টাব্যাপী বিরামহীন অভিযান চালানোর পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওইদিন সন্ধ্যায় সাড়ে ৭টার দিকে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকার কুশিয়ারা নদীর তীর থেকে নাজিম উদ্দিন পাশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে এদিন দুপুরে নিহত তরুণীর বাবা শামসুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত তরুণী নাজনিন আক্তার বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামের সামসুল হক চৌধুরী পালিত মেয়ে। অন্যদিকে, ঘাতক নাজিম উদ্দিন পাশার বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর এলাকায় হলেও সে পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বালিঙ্গায় তার নানা বাড়িতে বসবাস করছিল। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল খালিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর মরদেহ মঙ্গলবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তৈরি শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।