লাগামহীন নিত্যপণ্য, সুখবর দিলো টিসিবি

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে লাগামহীন দাম নিয়ন্ত্রণ ও পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতে ৯০ টাকার তেলের বিক্রি দ্বিগুণ করছে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

প্রতিদিন ন্যায্যমূল্যে (৯০ টাকা দরে) চার লাখ লিটার ভোজ্যতেল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

সারাদেশে চারশ ট্রাকের প্রতিটিতে এক হাজার লিটার করে তেল সাধারণ ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করবে সংস্থাটি। শুধু তেলই নয়, রমজানে দাম নিয়ন্ত্রণে চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রিও দ্বিগুণ করছে তারা।

শনিবার (২০ মার্চ) টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, বরাবরের মতো এবারও রমজান উপলক্ষে আগে থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে টিসিবি। ইতোমধ্যে রমজানপূর্ব বিক্রয় ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখন চারশ ট্রাকের মাধ্যমে তেল, চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামীকাল (রোববার) থেকে বিক্রি দ্বিগুণ করা হবে।

অর্থাৎ এখন প্রতি ট্রাকে পাঁচশ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কাল থেকে প্রতি ট্রাকে এক হাজার লিটার করে তেল বরাদ্দ দেওয়া হবে। অন্যান্য পণ্য- চিনি, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ সরবরাহও দ্বিগুণ করা হবে। রোজায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আগামী ৬ মে পর্যন্ত সারাদেশে ধারাবাহিক এ বিক্রয় কার্যক্রম চলবে বলেও জানান তিনি।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা দিনে ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মসুর ডাল, ৯০ টাকা দরে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১৫ টাকা দরে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারেন।

এদিকে বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে রমজানের আগে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ১৫ মার্চ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে মিল গেটে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম হবে ১১৩ টাকা, আর খুচরা বাজারে বিক্রি হবে ১১৭ টাকা দরে। আগে এই তেলের দাম মিল গেটে ১০৭ টাকা এবং খুচরা ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা ছিল।

বর্তমানে মিল গেটে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১২৭ টাকা, ডিলার পর্যায়ে ১৩১ টাকা এবং খুচরায় ১৩৯ টাকা ঠিক করা হয়েছে। আর পাঁচ লিটারের বোতল মিল গেটে ৬২০ টাকা, ডিলার পর্যায়ে ৬৪০ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে ৬৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এছাড়া মিল গেটে প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৪ টাকা, ডিলার পর্যায়ে ১০৬ টাকা এবং খুচরা ১০৯ টাকা। তবে রাজধানীর বেশিরভাগ বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।