লকডাউন নয়, কঠোর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত

দেশে দ্রুত বেড়ে যাওয়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামীকাল সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য কার্যত ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হচ্ছে।

তবে লকডাউন শব্দবন্ধের পরিবর্তে কঠোর বিধিনিষেধ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আজ রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ সময় জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে শিল্পকারখানা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আলাদাভাবে গতকাল শনিবার সাংবাদিকদের এ কথা জানানোর সময় লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করেন।

পরে শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লকডাউনের বদলে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবের মধ্যে অন্যতম হলো, আন্তঃজেলা যান চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। জেলা থেকে প্রবেশ বা বের হওয়ার পথে চেকপোস্ট বসানো।

যেসব যান চলবে সেগুলোর ৫০ শতাংশ আসন খালি রাখা। রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হতে পারবে না।

মসজিদে প্রতি ওয়াক্তের নামাজে পাঁচজন ও জুমার নামাজে ১০ জনের বেশি মুসল্লি না থাকা এবং সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসে তিন ভাগের এক ভাগ জনবল নিয়ে কাজ করা।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানো হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা সাতদিন যদি সবাই শক্তভাবে পালন করতে পারি তাহলে এটি দারুণভাবে কাজ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সেক্ষেত্রে আমরা অন্তত সাতদিন এটি করতে থাকি। এরপর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে যা ভালো হয়, সে সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করব।

এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, গতবারের সাধারণ ছুটির মতো এবারও যাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা না হয়, তার জন্য ব্যবসায়ী মহলের চাপ আছে। তারা যুক্তি দিচ্ছে, মহামারিতে সব বন্ধ করা সমাধান নয়। প্রথমবার বিশ্বব্যাপী বিষয়টি নতুন হওয়ায় বাংলাদেশে সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়।

জরুরি সেবা, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া সব কিছু বন্ধ রাখায় সেটা ‘লকডাউন’ বলা হয়েছিল। এরপর শিল্প-বাণিজ্যক্ষেত্রে সরকারের বিপুল ভর্তুকির কারণে বড় সমস্যা হয়নি। এবার আবারও সাধারণ ছুটিতে গেলে যে ক্ষতি হবে, তা পোষাতে সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার সেই সক্ষমতা থাকবে না।

একজন কর্মকর্তা বলেন, গতবার সরকারের মজুদে প্রচুর চাল ছিল। সাধারণ ছুটি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ অনেকটা স্বস্তি দিয়েছিল।

এবার সরকারের হাতে প্রয়োজনীয় চাল নেই। রমজান উপলক্ষে ভিজিএফ কার্যক্রমের জন্য চালের বদলে টাকা দেওয়া হচ্ছে। তাই এখন ‘লকডাউনে’ গরিব মানুষ কিভাবে চলবে? সরকারকে বিষয়টি বড় করে ভাবতে হচ্ছে।

গতকাল বিকেলে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় সব কিছু গত বছরের মতোই হবে। তবে সাধারণ ছুটি হবে না।

বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য একজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে সায় পেলে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে। আপাতত এই সিদ্ধান্তই থাকতে পারে।