সাত দিনের লকডাউনে কাজ হবে না

সাত দিনের লকডাউনে কাজ হবে না। বরং করোনার পরীক্ষা বাড়ানো দরকার। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তরা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর জন্য বিপজ্জনক। পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেকে আসতে রাজি হচ্ছেন না।

পরীক্ষা করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। তাই লোকজনকে আগ্রহী করতে নমুনা পরীক্ষা ফ্রি করার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

কমিটি জানিয়েছে, সংক্রমণের হার বাড়ার কারণে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে রোগীর ভিড় কিছুটা বেড়েছে। এদের একটা বড় অংশ বিদেশগামী যাত্রী। তাদের ছাড়া বাকিদের বেসরকারি পরীক্ষাগারে পাঠাতে পারলে সরকারি ল্যাবরেটরিতে চাপ কিছুটা কমবে।

২৪ ঘণ্টায় (১৫-১৬ এপ্রিল) দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৪ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট মারা গেলেন ১০ হাজার ৮১ জন। ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত চার হাজার ১৯২ জন। দেশে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে শনাক্ত হলেন সাত লাখ সাত হাজার ৩৬২ জন।

নমুনা পরীক্ষা কম থাকার কারণ হিসেবে লকডাউন ও সরকারি ছুটিকেই কারণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

দেশে এখন ২৫৭টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এরমধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে আরটি-পিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা হচ্ছে ১২১টি পরীক্ষাগারে, জিন এক্সপার্ট মেশিনের মাধ্যমে হচ্ছে ৩৪টি এবং র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে পরীক্ষা হচ্ছে ১০২টি পরীক্ষাগারে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ও মহামারি বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো উচিত। এখন আমাদের সক্ষমতা রয়েছে।

অ্যান্টিজেন টেস্ট করে আধঘণ্টার মধ্যে ফলাফল দেওয়া যায়। কেউ নেগেটিভ হলে তাকে আরটি-পিসিআর টেস্ট দেওয়া হয়। তাতে পজিটিভ এলে ধরে নেওয়া হয় তিনি পজিটিভ। মানুষকে অপশন দেওয়া হচ্ছে অ্যান্টিজেন টেস্ট করার। কিন্তু তারা রাজি হচ্ছেন না।’

‘হসপিটাল ফ্যাসিলিটিজ সুবিধার নয়’ মন্তব্য করে পরামর্শক কমিটির সদস্য ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সব জেলায় আইসিইউ নেই। অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের ঘাটতি থাকায় ন্যাজাল ক্যানুলাও দেওয়া যায় না। তাই হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধাও বাড়াতে হবে।’

লকডাউন যেটা দেওয়া হয়েছে, সেটা ভালো কাজ করবে না। এমন মন্তব্য করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সাত দিনের লকডাউন হয় না। লকডাউন করতে হয় এজন্য যে, সংক্রমিত একজন যেন অন্য কারও সঙ্গে মিশতে না পারে। কিন্তু সেটা কী আদৌ হচ্ছে? সেটা না হলে লকডাউনের কোনও মানে নেই। লকডাউনের কথা শুনে সবাই ঢাকা ছাড়লো। কেউ আইসোলেশনে রইলো না। নতুন ভ্যারিয়েন্ট এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’

পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্যবিদ আবু জামিল ফয়সাল, কেবল ঢাকা নয়, আশপাশে সব জায়গাতেই টেস্ট বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি আইসোলেশন ব্যবস্থাতেও জোর দিতে হবে। আইসোলেশনের জন্য এখন বেশি ফিল্ড হাসপাতাল দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

২৪ ঘণ্টায় (১৫-১৬ এপ্রিল) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৭৭০টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১৯ হাজার ৯৫৯টি। দেশে এখন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে অ্যান্টিজেনসহ ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২টি। এ সময়ে শনাক্তের হার ছিল ২১ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ।

সোনালীনিউজ