‘করোনাভাইরাস’ আকৃতির শিলার আঘাতে কয়েক মিনিটেই লণ্ডভণ্ড সব, ৫০ জন আহত

করোনাভাইরাসের প্রতীকী আকৃতির মতো শিলা পড়েছে রংপুরের পীরগঞ্জে। আর মাত্র ৫ মিনিটের শিলাবৃষ্টিতে উঠতি ইরি-বোরো ধানসহ কয়েকশ’ টিনের ঘরের টিন ফুটো হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝরে পড়েছে আমের মুকুল। শিলের আঘাতে প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলা শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে গেছে।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার উল্লেখিত ইউনিয়নের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এ সময় শিলাবৃষ্টিও হয়। শিলার আঘাতে আম, ধান ঝরে পড়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ টিনের ঘরের চালা ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পথ চলতে গিয়ে শিলার আঘাতে শানেরহাটের দামোদরপুরের শিউলী খাতুন (১৪), সুমন মিশা (৮), মাজেদুল ইসলামসহ (১৯) আশপাশের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শানেরহাট ইউনিয়নের দামোদরপুর, কুঠিপাড়া, গবরা কুতুবপুর, এনায়েতপুর, মিঠিপুর ইউনিয়নের সদরা কুতুবপুর, কাশিমপুর, একবারপুরসহ ১৫-১৬টি গ্রামে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

দামোদরপুরের রান্জু মিয়া, গবরা কুতুবপুরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরণী কান্ত বলেন, এ বছরের প্রথম কাল বৈশাখী ঝড়ে ধান ও আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক টিনের তৈরি বাড়ির টিন ফুটো হয়েছে। এ সময় হাতে টাকা নেই। কিন্তু এখন ধার কর্জ করে নতুন টিন কিনতে হবে।

ইউনিয়নটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মন্টু জানান, যেভাবে শিলাবৃষ্টি হচ্ছিল। আর কয়েক মিনিট স্থায়ী হলে অনেক গ্রামের উঠতি ইরি ধান সম্পূর্ণ ঝরে পড়তো এবং টিনের চালাগুলো ফুটো হতো। তারপরও অনেকেই আমাকে মোবাইল করে তাদের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। কয়েকশ’ ঘরের টিন ফুটো হওয়ার খবর পেয়েছি।

মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম ফারক আহমেদ বলেন, আমি আমার জীবনে এই প্রথম স্বল্প সময়ে এত শিলাবৃষ্টি দেখলাম। শিলাগুলো করোনাভাইরাসের ‘প্রতীকী চিহ্ন’ এর মতো। শিলার আঘাতে অনেকেই আহত হয়েছেন।

ইউএনও বিরোদা রানী রায় বলেন, এখন পর্যন্ত ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে খবর পাইনি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় কিছু ঘটলে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করব।