কাঁদতে কাঁদতে বাবা-মায়ের লাশ চিনিয়ে দিলো ১০ বছরের মীম

মা’দারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কায় আজ সোমবার মর’্মান্তিক দু’র্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জন নি’হত হন। এই ঘটনায় বেঁচে ফেরে ১০ বছরের শিশু মীম।

তবে দু’র্ঘটনায় নি’হত হয়েছেন তার বাবা-মা ও দুই বোন। সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব মীম সারি করে রাখা লা’শের মাঝে প্রশাসনের কর্মক’র্তাদেরকে বাবা-মা ও দুইবোনের লা’শ চিনিয়ে দিয়েছে।

এ সময় চিৎকার করে কাঁদছিল শিশুটি। প্রশাসনের কর্মক’র্তারা মীমকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তারাও আবেগঘন হয়ে পড়েন।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মীমের বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলায়। বাবা-মা ও দুই বোনসহ ঢাকায় থাকত তার পরিবার। গতকাল রোববার তার দাদার মৃ’ত্যুর সংবাদে ঢাকা থেকে মীমের পরিবার বাড়িতে ফিরছিল। পথে পদ্মা নদীতে দু’র্ঘটনায় মীম ছাড়াই সবাই মা’রা যায়। মীমের বাবা ঢাকায় টেইলার্সের কাজ ও টিউশনি করে সংসার চালাতেন।’

ইউএনও বলেন, ‘দু’র্ঘটনায় স্পিডবোটটি উল্টে গেলে সঙ্গে থাকা ব্যাগটি ধরেছিল শিশু মীম। সেই ব্যাগটি বুকে ধরে কোনোমতে সে পাড়ে আসে। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় লোকজন তাকে উ’দ্ধার করে। তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মীম একটু স্বাভা’বিক হলে তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি, তার বাড়ি খুলনার তেরখাদায়। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানকার উপজেলা নির্বাহী কর্মক’র্তার মাধ্যমে তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু ওই পরিবারের সক্ষ’ম কেউ ছিল না, যারা লা’শগু’লো গ্রহণ করবে। পরে আমর’াই দায়িত্ব নিয়ে লা’শ চারটি দুজনের তত্ত্বাবধানে সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ২০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা সরকারি ব্যবস্থাপনায় দা’ফনের জন্য দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মীমের ঘটনাটি আলাদা। কারণ ওর দাদা-দাদি জীবিত নেই। চাচাদের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না। যার কারণে তারা ঢাকায় বাস করছিলেন। ওর নানা-নানিই এখন বেঁচে থাকার অবলম্বন। পরিবারের কেউ নেই।’ এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মক’র্তা আসাদুজ্জামান।

সোমবার ভোরে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় থাকা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের ধাক্কা লাগে। এতে ২৬ জন যাত্রী নি’হত হন। ৬ জনকে জীবিত উ’দ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুজন মা’রা যান। ঘটনাস্থলে শিবচর ফা’য়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উ’দ্ধার কাজ চালান।