‘মানবিক কারণে’ দূরপাল্লার বাস ছেড়ে দেওয়া হয়েছে !

দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল ঢাকা-রংপুর ও ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ অংশে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। একদিকে রংপুর-দিনাজপুর-পঞ্চগড়, অন্যদিকে নাটোর-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের যানবাহন— দুইয়ে মিলে সিরাজগঞ্জজুড়ে তৈরি এই তীব্র যানজটের ভোগান্তি ছিল দিনভর।

শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে করে ফের স্বাভাবিক যানচলাচল শুরু হয়েছে সিরাজগঞ্জে।শনিবার (৮ মে) সন্ধ্যার পর দূরপাল্লার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ধীরে ধীরে রাত ৯টা নাগাদ স্বাভাবিক হয়েছে যানচলাচল।

সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) মো. আব্দুল গণি সারাবাংলাকে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দূরপাল্লার সব বাস আটকে দেওয়া হয়েছিল মহাসড়কে। অনেকে ফাঁকি দিয়ে গেলেও টোল প্লাজায় গিয়ে আটকে যান।

এদের মধ্যে অনেকেই দু’দিন পেরিয়েও আটকে ছিলেন। পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক কারণ বিবেচনা করে দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে দেওয়ার হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে মহাসড়কে যানচলাচল

স্বাভাবিক হয়েছে।আজকের পর আর দূরপাল্লার কোনো বাস কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তা। বিষয়টি যাত্রীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের স্মরণে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি বিধিনিষেধের আওতায় ১৪ এপ্রিল থেকেই সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে গত পরশু (বৃহস্পতিবার, ৬ মে) থেকে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়, গণপরিবহনগুলো জেলার বাইরে যেতে পারবে না। এই নির্দেশনা দেওয়া হলেও গণপরিবহনগুলো আন্তঃজেলা চলাচলের চেষ্টা করেছে বৃহস্পতিবার থেকেই।

এর মধ্যেই মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচলের চেষ্টা করলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাসগুলোকে আটকে দিলে ও বাসের টোল আদায় বন্ধ করে দিলে শনিবার দুপুর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম গোলচত্বর থেকে নলকা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়িসহ গণপরিবহন ও ট্রাকের দীর্ঘ যানযট তৈরি হয়।

এসময় সেতু পশ্চিম পাড় এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় ছাড়া মহাসড়কের অন্য কোথাও দূরপাল্লার বাস তেমন দেখা যায়নি। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে সেতুর দুই দিক থেকে দূরপাল্লার যানবাহন আসতে শুরু করে। সেগুলোকে কড্ডা ও হাটিকুমরুল

এলাকায় আটকে দিলে পরিবহন শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। পরে যথাসম্ভব বাসগুলোকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে ট্রাফিক পুলিশ। মানবিকতার খাতিরে কিছু কিছু পরিবহন ছেড়েও দেওয়া হয়। এই বাসগুলোর পাশাপাশি তখন সব যানই আটকে থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানযট।