বাড়ছে পানি, বন্যার আশঙ্কা!

বর্ষাকাল এলেই দেশের নদনদীর পানি বাড়ে, দেখা দেয় বন্যা। বন্যার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এদেশের মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই বন্যা সবকিছু ভাসিয়ে নেয়।

মানুষ আবারো নতুন করে সব গড়ে ভালোভাবে বাঁচার আশায়। বর্যাকাল আসতে আরো কিছুদিন বাকি থাকলেও এখনই দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সব প্রধান নদনদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনো তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের গাণিতিক মডেলের তথ্য মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানির সমতল দ্রুত বাড়তে পারে।

উজানে বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জ জেলায় যাদুকাটা, পুরাতন সুরমা ও সুরমা নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে পানি কিছু পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, উজানের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার সব নদনদীর পানি বাড়বে। এতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এই বিষয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ভারতে এবং আমাদের উত্তরাঞ্চলের দিকে বৃষ্টি হচ্ছে।

এতে কিছু নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েকদিন পানি আরো কিছুটা বাড়তে পারে। সুনামগঞ্জের দিকে ধান কাটা হয়ে গেছে। এখন হাওড়ে পানি আসা স্বাভাবিক। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে ওঠেনি। ফলে এখনই আমরা বন্যার আশঙ্কা করছি না।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমে স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে খেপুপাড়ায় ৩৭ মিলিমিটার। এর বাইরে রাজারহাট ও সন্দ্বীপে ৪, ডিমলা, দিনাজপুর ও রাঙামাটিতে ২, সৈয়দপুর ও মাইজদী কোর্টে ৩, হাতিয়ায় ২৪, সিলেটে ৫, বগুড়ায় ৩২, বদলগাছিতে ২১, রংপুরে ৬, ভোলায় ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, চলতি সপ্তাহে দেশের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশেই কম বেশি থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে নদনদীর পানি কিছুটা বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে বন্যা ছিল গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। তিন দফা বন্যায় এক হাজার ৩২৩ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার পুনর্বাসন

কর্মসূচি নিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। ওই সময় বন্যায় ১২ লাখ ৭২ হাজার ১৫১ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় জানায়, গত বছর জুলাই পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ২৮ লাখ ১২ হাজার ৩৮০ জন মানুষ। বন্যা মারা যায় ৪২ জন।

সোনালীনিউজ