যেসব রোগ থেকে মুক্তি দেয় কাঁঠাল

জাতীয় ফল কাঁঠাল খেতে সবাই কমবেশি পছন্দ করেন। গরম মানেই আম-কাঁঠালের সুবাস চারদিকে। কাঁঠালে আছে হাজারো পুষ্টিগুণ। জানেন কি, কাঁঠাল খেলে সারে নানা রোগ। স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো এই ফলটি।

কাঁঠালে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক এবং নায়াসিনসহ বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। এ ছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায়, তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী।

শুধু পাকা কাঁঠাল নয়, কাঁচা কাঁঠাল সবজি হিসেবে রান্না করা খাওয়া হয়। ভিটামিন এবং ফাইবারে পরিপূর্ণ কাঁঠাল খাদ্য তালিকায় রাখলে, শরীরে মিলবে নানা পুষ্টি। এসব পুষ্টিগুণ শরীরের টিস্যুগুলোতে শক্তি যোগায়। জেনে নিন কাঁঠাল যেসব রোগ থেকে মুক্তি দেয়-

রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়:

অনেকেই ভাবেন, কাঁঠাল খেলে হয়তো ডায়াবেটিস বেড়ে যাবে। মোটেও না, বরং এটি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। কারণ এতে মোটামুটি কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) আছে।

যা খাদ্য খাওয়ার পরে আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কত দ্রুত বেড়ে যায় তার পরিমাপ। কাঁঠালে থাকা ফাইবার হজমকে ধীর করে দেয় এবং রক্তে শর্করার স্পাইক প্রতিরোধে সহায়তা করে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

কাঁঠালে কয়েকটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। যা বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো শরীরের বিভিন্ন কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।

ফ্রি র্যাডিকেল নামক অণু বেড়ে গেলেই শরীরে বিভিন্ন ক্ষতর সৃষ্টি হয়, সেইসঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। জেনে নিন কাঁঠালের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানসমূহ-

কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আছে। যা প্রদাহ রোধে সাহায্য করে। এমনকি হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগও প্রতিরোধ করে।
ক্যারোটিনয়েড থাকে কাঁঠালে। এটি প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়।
কাঁঠালে থাকা ফ্ল্যাভনোনসে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। যা রক্তে শর্করার, রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমায়। টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে এই উপাদানের গুণে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

কাঁঠালে ভিটামিন এ এবং সি থাকায়, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গরমে নিয়মিত কাঁঠাল খেলে ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে।

ত্বকের সমস্যা কমায়:

অনেকেই ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকে। তাদের জন্য কাঁঠাল হতে পারে আদর্শ খাবার। এই ফলে ভিটামিন সি সহ যেসব উপাদান আছে, সবই শরীরে পুষ্টি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। এর ফলে ত্বকের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।

পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁঠাল খেলে ত্বকের বয়স কমে যায়।

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে:

কাঁঠালে থাকা পটাসিয়াম, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস থাকায় হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এ ছাড়াও কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি-৬ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

গর্ভবতী মায়ের জন্য উপকারী:

চিকিৎসাশাস্ত্র মতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী নারী ও তার শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী নারী কাঁঠাল খেলে তার গর্ভস্থ সন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। এমনকি দুগ্ধদানকারী মা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

এ ছাড়াও, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা থেকে শুরু করে হাড় মজবুত করে কাঁঠাল। এতে থাকা খনিজ উপাদানসমূহ রক্তাল্পতার সমস্যা দূর করে। সেই সঙ্গে বদহজম দূর করে, কমায় দুশ্চিন্তাও। কাঁঠালের আরও অনেক পুষ্টিগুণ আছে। তাই পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত কাঁঠাল খেলে এসব রোগ থেকে মুক্তি পাবে সহজেই।