সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে রেড এলার্ট জারি

এখনই সাতক্ষীরায় লকডাউন কার্যকর করছে না জেলা প্রশাসন। তবে কঠোর বিধি-নিষেধের পাশাপাশি সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। করোনা সংক্রমণের এ ধারা অব্যাহত থাকলে সাতক্ষীরায় আগামী ৩ জুন লকডাউনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। আজ সোমবার (৩১ মে) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনা বিষয়ক এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত, বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদসহ অন্যান্যরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, সীমান্তের চোরাপথ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এজন্য সীমান্তবর্তী উপজেলা সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, দেবহাটা এবং শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়ন সংলগ্ন সীমান্তে পাহারায় স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে থাকছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, বিজিবি প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা। প্রতিরক্ষা কমিটি সীমান্তের চোরাচালান এবং অবৈধ যাতায়াতকারীদের চিহ্নিত করবে। একইসঙ্গে তাদের বাড়িঘর এবং চলাফেরায় কড়া নজরদারি রাখা হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সাতক্ষীরা করোনা রেড এলার্টের আওতায় রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার রোধে বিজিবি মাঠে রয়েছে।

তিনি জানান, ভোমরা বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ পণ্যবাহী গাড়ির পাঁচ শতাধিক চালক ও স্টাফ যাতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে না পারে সে ব্যাপারেও বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরা বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আল মাহমুদ বলেন, বিজিবি সদস্যরা ২৩ এপ্রিল থেকে সীমান্তে কঠোর নির্দেশনা মেনে টহল চালিয়ে যাচ্ছেন। অবৈধ যাতায়াত রোধে পাহারা জোরদার করা হচ্ছে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। গোটা সীমান্তের স্থল ও নৌ পথে একাধিক টিম সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। প্রতিটি টহল টিমে আগের চেয়ে বিজিবি সদস্য সংখ্যা দুইগুন বাড়ানো হয়েছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে সীমান্তের সব এলাকায় মোটরসাইকেল টহল চালু করা হয়েছে।