‘তারা আমাদের কাছে আসবে, আমরা তো যেতে পারব না’

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসার দু’দিন আগে থেকে সাগরের নোনা পানিতে চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর, চর নিজাম, কলাতলীর চরসহ নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট ও গবাদিপশুর চারণভূমি ৬ থেকে ৭ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়।

প্রবল জোয়ারে চরের প্রায় ৫ হাজার পশু ভেসে যায়। প্লাবন কমলেও ভোগান্তি কমেনি চরবাসীর। খাদ্য সংকটে নোনা পানি খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গরু-মহিষ। অথচ দেখভাল করার কেউ নেই।

এক কৃষক বলেন, পশুর খাবারের জন্য বিশুদ্ধ পানি নেই। নোংরা পানি খেলে তড়কা, বাদলা, গলা ফোলা এসব রোগ দেখা দেয়।

সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ক্ষয়-ক্ষতির তালিকা তৈরি করতে পারেনি জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সরেজমিনে না গিয়ে অফিসে বসে ক্ষয়-ক্ষতির নামমাত্র তালিকা করারও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দাবি, ইয়াসের পর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪১৯০টি গরু, ৩২৫২টি মহিষ, ৯৭৮৮টি ছাগল, ১৩৭৪টি ভেড়া, ৩৬৫৫৪টি মুরগী এবং ১০১৯২টি হাঁস। অন্যদিকে মারা গেছে ২৮টি গরু, ৫৬টি মহিষ, ৫০টি ছাগল ও ভেড়া, ৬৭৪৮টি মুরগী এবং ৪৩২টি হাঁস।

এ বিষয়ে অভিযোগ করে এক কৃষক বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে কেউ খোঁজও নেয়নি।

চর কুকরি-মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজান বলেন, পানি ও খাদ্যের অভাবেই প্রাণীরা নিত্যনতুন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলেছিল আসবে।

উপজেলা কর্মকর্তা লোনা পানি ও খাদ্যের কারণে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিচ্ছে উল্লেখ করলেও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে কথা না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, ঝড়ের পরে পশু-পাখির বিভিন্ন সমস্যা দেখা গিয়েছে। আমাদের মেডিকেল টিমও কাজ করে যাচ্ছে।

ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইন্দ্রজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, সবার কাছে তো আমাদের যাওয়া সম্ভব না। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা আমাদের কাছে আসবে বা আমাদেরকে টেলিফোন করে জানাতে হবে। আমরা তো সার্কুলার দিয়েছি।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ প্রাথমিকভাবে এক কোটি ৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ক্ষতি নিরূপণ করেছেন। আর জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ একর চারণভূমি।

তথ্যসূত্র:somoynews.tv