অবসর নিচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ!

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেললেন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। তার একদিন পরই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ভাবছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ!

শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে ম্যাচের তৃতীয় দিনের মাঠে নামার আগে টিম মিটিংয়ে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি বা রিয়াদ এখনো কিছু জানাননি। তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ড্রেসিং রুমে অবসরের ঘোষণা দিয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই টেস্টের পর আর খেলবেন না বলে জানিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টকে।

দেশের ক্রিকেটে মেঘে ঢাকা এক সূর্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন, কিন্তু সঠিক সম্মানটুকু কি পেয়েছেন? দল যখন বারবার খাদের কিনারে গিয়েছে কাণ্ডারি হয়ে একাই টেনে নিয়েছেন। মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার বিনিময়ে কী পেয়েছেন। নানা কারণে বাদ পড়েছেন দল থেকে। হ্যাঁ, এই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই দেশের ক্রিকেটে অবহেলার আরেক নাম।

কথায় আছে, অভিজ্ঞতাই বড় অর্জন। কিন্তু দেশের ক্রিকেটে যেন এই অভিজ্ঞতাই ব্রাত্য। দিন যত গড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহর অভিজ্ঞতার ঝুলি তত পূর্ণ হয়েছে। মাঠে পাল্লা দিয়ে হেসেছে তার ব্যাট। তারপরও মন ভরেনি টিম ম্যানেজমেন্টের। ভালবাসার পাত্র হতে পারেননি কোচেরও।

গেলো বছর কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বলেছিলেন, তার টেস্ট পরিকল্পনায় নেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পাকিস্তান সিরিজের পর তাকে বাদ দেওয়া হয় সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে। আবার দলের যখন দুঃসময় তখন তাকে ডাকা হলো টেস্ট দলে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে টেনে নিয়েছেন দলকে। অপরাজিত থেকেছেন ১৫০ রানে।

প্রত্যাশার প্রমাণ দিয়েও বারবার যখন অপমান হতে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই অভিমান বাড়ে। আর সেই অভিমান থেকেই হারারে টেস্টের তৃতীয় দিনের সকালে টিম মিটিংয়ে জানিয়েছেন সাদা পোশাককে বিদায় জানানোর ইচ্ছা। তাহলে হারারে টেস্টই কি হতে যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহর শেষ টেস্ট? রিয়াদের ক্রিকেটের এই বনেদি সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়ার ইঙ্গিত সত্যি হলে ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া হবে না অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের। আরও এক ক্রিকেটারকে হয়তো প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া হবে না।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদার্পণ ২০০৭ সালে হলেও, টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় ৯ জুলাই ২০০৯ সালে। ১২ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৫০টি ম্যাচ। ৫ সেঞ্চুরি আর ১৬টি ফিফটিতে করেছেন ২ হাজার ৯১৪ রান। ৫ সেঞ্চুরির ২টি করে নিউজিল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আর একটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

বল হাতেও দুঃসময়ে দলকে ব্রেক থ্রো এনে দিয়েছেন। টেস্ট ক্যারিয়ারে রয়েছে ৪৩টি উইকেট। যেখানে একবার ৫ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞ রয়েছে তার। এত কিছুর পরও অবজ্ঞা আর অবহেলাই সঙ্গী হয়েছে। তাই সাদা পোশাককে বিদায় জানাতে যাচ্ছেন রিয়াদ।