কী লেখা ছিল সালমান শাহর সুইসাইড নোটে?

ক্যারিয়ারে তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান নায়ক সালমান শাহ। তার মৃত্যু মেনে নিতে পারেনি অসংখ্য ভক্ত। রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

ওই বাসা থেকে একটি সুইসাইড নোটও পেয়েছিল পুলিশ। কী লেখা ছিল সালমান শাহর সুইসাইড নোটে? জনপ্রিয় এ নায়ক লিখেছিলেন, ‘আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার। পিতা কমরুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী। ১৪৬/৫, গ্রীন রোড, ঢাকা #১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ বা আজকের পরে যে কোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’

সালমান শাহর মৃত্যুরহস্যে জট এখনো খোলেনি। যদিও পুলিশের দাবি, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু বিষয়টি আজও মানতে পারছেন না তার ভক্তরা। তাদের দাবি, অমর এ নায়ককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমানের আত্মহত্যার কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছিল।

নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, বেশি আবেগপ্রবণ হওয়া, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা ও অভিমান এবং সন্তান না হওয়ায় অপূর্ণ দাম্পত্য। পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি দিয়েছেন সালমান শাহর মা। আগামী ৩১ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। স্মৃতির পাতায় সোনালি অক্ষরে লেখা আছে তার নাম। চলে যাওয়ার ২৫ বছর পরেও শ্রদ্ধাভরে তার নামটি স্মরণ করেন অসংখ্য ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। আজও ভক্তের ‘অন্তরে অন্তরে’ সালমান শাহ। থাকবেন যত দিন বাংলা সিনেমা থাকবে।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। তার পুরো নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর দুই ছেলের মধ্যে সালমান শাহ বড়। তার ছোট ভাইয়ের নাম শাহরান চৌধুরী ইভান।

খুলনার বয়রা মডেল হাইস্কুল থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন সালমান শাহ। ১৯৮৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার ধানমন্ডির আরব মিশন স্কুল থেকে। এরপর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ধানমন্ডির মালেকা সায়েন্স কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সামিরা হককে বিয়ে করেছিলেন সালমান শাহ।

১৯৮৫ সালে অভিনয় জীবন শুরু করেন সালমান শাহ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় তার। বড়পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে।