৫০ পরিবার, চুল নিয়ে কারবার

মাগুরা: সে গ্রামের কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ কারিগর, কেউ প্রসেস মাস্টার, কেউ ডিজাইনার কেউবা মহাজন। চুল নিয়ে তাদের কারবার।

নারীর ঝরে পড়া চুল সংগ্রহ করে বিক্রির উপযোগী করাই তাদের কাজ। আর এ কাজ করেই তারা স্বাবলম্বী। তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।
মাগুরার শালিখা উপজেলার বৈখালী গ্রামের ৫০টি পরিবারের প্রায় ৫শ’ মানুষ এই চুলের ব্যবসায় জড়িত। কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই তারা এই ব্যবসাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বৈখালী গ্রামে গড়ে উঠেছে অনেকগুলো কারখানা। তারা চুল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপ ও বাহারি খোঁপা তৈরি করে থাকেন। প্রায় ৫শ’ মানুষ চুল শিল্পে কাজ করে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

দেখা গেল, গ্রামের কারখানাগুলোতে নারী-পুরুষ মিলেমিশে কাজ করছেন। করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরাও এ কাজে সাহায্য করছে তাদের বাবা-মাকে।

বৈখালী গ্রামের একটি বড় কারখানার মালিক সুজন শেখ বাংলানিউজকে বলেন, এই গ্রামের বেশ কয়েকজন ফেরীওয়ালা মাগুরা, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ি, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফেরী করে নারীদের মাথা থেকে ঝরে পড়া চুল সংগ্রহ করেন। তারা কিনে আনেন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা কেজি। আমাদের কাছে বিক্রি করেন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়।

তিনি জানান, তার কারখানায় চুল পরিষ্কার করে পরচুলা ও ক্যাপ তৈরি হয়। এরপর ঢাকার উত্তরা ও বারিধারাসহ চীনা কোম্পানির কাছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

রবিউলের কারখানায় কাজ করেন মাসুদ রানা। তার বাড়ি পাবনা। তিনি বলেন, মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে তিনি কাজ করেন। পরিবার নিয়ে তিনি ভালোই আছেন।

গৃহিনী চায়না বেগম (৪০) জানান, এ গ্রামে তার বিয়ে হয়েছে। গ্রামের অনেক মানুষ চুলের কাজ করে সংসার চালায়। তা দেখে তিনিও এই কাজে যোগ দেন। মাসে তিনি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন।

১৩ বছর বয়সী সোহেল নামের এক বালককেও কারখানায় চুলের কাজ করতে দেখা গেল। সে জানালো, লেখাপড়ার পাশাপাশি সে চুলের কাজ করে।

বৈখালী গ্রামের আরেকটি কারখানার মালিক বদরুল হোসেন বলেন, এ কাজে আমাদের অনেক টাকা-পয়সা লাগে। সরকার যদি আমাদের বিনা সুদে ঋণ দিতো তাহলে আমরা আরও ভালোভাবে কারাখানায় অত্যাধুনিক মেশিন বসিয়ে ব্যবসাটা বড় করতে পারতাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, আমরা যা নোজগার (রোজগার) করি তাতে হাত খরচসহ সংসারের অনেক কাজে নাগে। বিটা মানষির (পুরুষ মানুষ) কাছে হাত পাতা নাগে (লাগে) না।

এ বিষয়ে বিসিক মাগুরা অঞ্চলের উপ-পরিচালক আব্দুস সালাম বাংলানিউজকে বলেন, শালিখা উপজেলায় বেশ কিছু পরিবার নারীদের মাথার ঝরে যাওয়া ও পরিত্যাক্ত চুল বিদেশে রপ্তানি করছে। শিগগিরই আমি সেখানে পরিদর্শনে যাব। প্রয়োজন হলে তাদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করব। উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করব।