ভাবির পরকীয়া, পরিবারের মান বাচাতে বন্ধুকে খু’ন

বন্ধুর সঙ্গে ভাবির পরকীয়া প্রেম। একই সঙ্গে এলাকার আরো এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ভাবির। তাই পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে ভাবির এক প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে বন্ধুকে খুন করেন দেবর। এমন ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুরে।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রায় ১৪ মাস পর হ’ত্যাকাণ্ডের আসল রহস্যের উন্মোচন হয়েছে। গাজীপুর পিবিআইয়ের পু’লিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মা’মলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো রফিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১০ জুলাই শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের পাবুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল (১৯) বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ১৫ জুলাই সকালে গজারি বনের ভেতর থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় রাসেলের লা’শ উদ্ধার করে পু’লিশ।

ঘটনার পরপরই রাসেলের বাবা মো. জমির উদ্দিন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় প্রথমে অ’পমৃ’ত্যু মা’মলা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হ’ত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আ’সামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত হ’ত্যা মা’মলা করেন জমির উদ্দিন।

তিনি আরো জানান, নানা দিক বিবেচনায় তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তের একপর্যায়ে হ’ত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রানা (২২), কাউছার (২৩) ও হেলালকে (৪৫) পু’লিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পু’লিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, পিবিআই মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে তিন আসামিকে মঙ্গলবার গ্রে’প্তার করে।

তিনি আরো বলেন, কাউসরের মেজো ভাই মো. ফরিদের স্ত্রীর সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার সময় ফরিদ দেশের বাহিরে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে রাসেলের ঘনিষ্ট বন্ধু রানার সঙ্গেও ফরিদের স্ত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রানা এই সুযোগে ফরিদের ভাই কাওছারকে রাসেলের পরকীয়া প্রেমের কথা জানায়। এ সময় কাওছার পরিবারের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে রানা ও হেলালকে সঙ্গে নিয়ে রাসেলকে হ’ত্যার পরিকল্পনা করেন।

পু’লিশ সুপার জানান, রানা ফরিদের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে রাসেলকে পাবুরিয়াচালার শহুরের টেক গজারি বনের ভেতরে যেতে বলে। রাসেল সেখানে গেলে রানা, হেলাল এবং কাওছারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা রাসেলকে শ্বাসরোধ করে হ’ত্যা করে।

তিনি আরো বলেন, গ্রে’প্তারকৃতরা হ’ত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। রানাকে বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হলে সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আ’সা’মিদের নাম উল্লেখ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।