বাবার কাঁধে সন্তানের মৃতদেহ, সে তো অনেক ভারী

চাকরির জন্য রাজধানীতে এসে লাশ হয়ে ফিরতে হলো কুমিল্লার যুবক সিফাতুল ওয়ালিফ স্বাধীনকে। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গু কেড়ে নিল সপ্তাহখানেক আগে গ্রাম থেকে আসা তাজা এই তরুণ প্রাণ।

সম্প্রতি রাজধানীতে ভয়াবহ হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বাড়ছে মৃত্যু হারও। এ অবস্থায় সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বেদনায় কাতর প্রিয় সন্তানকে হারিয়ে, মায়ের এই কান্না-আহাজারিতে যেন ভারী হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ। মাত্র অল্প ক’দিন আগেই জীবিকার জন্য ঢাকায় এসে ডেঙ্গুর কবলে ২১ বছরের তরুণ স্বাধীন ফিরলেন লাশ হয়ে।

মা তবু কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন। আর বাবা দাড়িয়ে আছেন, নিস্তব্ধ হয়ে। একজন বাবার কাঁধে তার সন্তানের মৃতদেহ কতটা ভারী, তা কেবল ওই বাবাই জানেন।

স্বাধীনের বাবা মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, আমরা গ্রামে থাকি। সে ঢাকাতেই থাকত। সর্দিজ্বর হয়েছিল। সকালে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। আর বাঁচানো গেল না।

সিফাতুল ওয়ালিফ স্বাধীন কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুবাধে শুরু করেছেন প্রশিক্ষণ। সর্বশেষ সপ্তাহখানেক আগে গ্রাম থেকে এসে জ্বরের কবলে পড়েন। শনাক্ত হয় ডেঙ্গু।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে শনিবার রাতে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বাধীন।

এতো অল্প বয়সে এমন একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় শোকে বিহব্বল স্বজনরা।

তারা বলেন, এটা তো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। আমরা খুবই মর্মাহত।

শুধু স্বাধীনই নয় ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় খালি হয়েছে আরো অনেক মায়ের বুক। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৯ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২২১ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ১৬৪ জন।