ছেলেকে পেনশনের টাকার হিসাব না দেওয়ায় নি’র্যাতন, পিতার সংবাদ সম্মেলন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ঝাপড়া কাজিপুরে ছেলেকে পেনশনের টাকার হিসেব না দেওয়ায় পিতাকে জিম্মি করে নি’র্যাতন, বাড়ি ছাড়া ও আশ্রয় দেওয়ায় চাচাদের পরিবারের সদস্যদেরকে অবরুদ্ধ করে মা’রপিট করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায় বিচার দাবি করে এক অসহায় পিতা সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

সকাল ১১টায় ভু’ক্তভোগি পিতা ও অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক আমির হামজা রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের ঝাপড়া কাজিপুর গ্রামে সংবাদ সম্মেলনটি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আমির হামজা বলেন, আমি বিগত ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের পদ থেকে অবসর গ্রহন করি এবং জিপি ফান্ডসহ অবসরকালীন মোট ৩৫ লাখ টাকা প্রাপ্ত হই। যা সরকারি নিয়ম মোতাবেক সোনালী ব্যাংক তাড়াশ শাখায় আমার একাউন্টে জমা হয়। জমাকৃত সেই টাকার মধ্য থেকে আমি ২৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে গ্রামের কাজিপুর বাজারের পাশে কবরস্থান সংলগ্ন জায়গায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করি, ৫ লাখ টাকা মেয়ের জামাতা রফিকুল ইসলাম টেনিসকে দেই, ২ লাখ টাকা একটি পুকুর খনন ও শ্রমিক মজুরী বাবদ ব্যয় করি এবং ২ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ক্রয়সহ চিকিৎসা বাবদ ব্যয় করি। এভাবে উত্তোলনকৃত ২৩ লাখ টাকাই ব্যয় করেছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হাসনা খাতুন, ছেলে সোয়েব আকতার ও মেয়ের জামাতা রফিকুল ইসলাম টেনিস বলেন আমি পেনশন বাবদ ৭৬ লাখ টাকা পেয়েছি এবং ৩৫ লাখ টাকার কথা প্রকাশ করেছি এবং বাকি ৪১ লাখ টাকা নাকী গোপনে আমার ভাইদেরকে দিয়েছি। সেই সন্দেহবসত আমার ছেলে সোয়েব আকতার, মেয়ের জামাতা রফিকুল ইসলাম টেনিস ও আমার স্ত্রী হাসনা খাতুন গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে আমাকে আমার বসতবাড়িতে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যতন করে রাতে আমার সোনালী ব্যাংক, তাড়াশ শাখার একাউন্টে গচ্ছিত আরো যে ১২ লাখ টাকা ছিল তার জন্য তারা সাদা চেকের একাধিক পাতায় জোর পূর্বক স্বক্ষর নেয়।
অপরদিকে আমার অবসরকালীন মাসিক ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য সোনালী ব্যাংক চান্দাইকোনা শাখার অনুকুলে থাকা একটি চেক বইয়ের সকল পাতায় স্বাক্ষর নিয়েছে। এসময় তারা আমাকে হ’ত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় শারীরিক নি’র্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। এতে আমি নিরুপায় হয়ে পিতা আলহাজ্ব আবু সাইদ আকন্দের বসতবাড়িতে এসে ভাইদের কাছে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু আমাকে আশ্রয় দেওয়ার অ’পরাধে আমার ছেলে ও আমার মেয়ের জামাতা মিলে চান্দাইকোনা থেকে মাস্তান ভাড়া করে এনে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে দেশী অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমার ভাইদের বসতবাড়িতে ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ভাইদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ও নির্যাতন করে। এসময় আমার ভাইদের জীবন রক্ষা করার জন্য বাড়ির নারীরা এগিয়ে গেলেও সেই মাস্তানরা তাদেরকেও মারপিট করেছে। আবার আমার জীবন রক্ষা করায় ও আমাকে আশ্রয় দেওয়ায় আমার ৫ ভাইয়ের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করছে। বর্তমানে আমি আমার স্ত্রী হাসনা খাতুন, ছেলে সোয়েব আকতার ও মেয়ের জামাতা রফিকুল ইসলাম টেনিসের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেয়ে ভাইদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও তারা সেখানেই আমার উপর হামলাসহ নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এতে আমি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিতসহ চরমভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। এমনকি আমার ভাইদেরকেও তারা বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না, তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আবার ভয়ভীতি উপেক্ষা করে বাড়ি থেকে কর্মের টানে বের হলেও রাস্তা-ঘাটে তাদের উপর অতর্কিত হামলা ও মারপিট করছে। এমতাবস্থায় আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার এবং আমার ভাইদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও ন্যায় বিচার দাবি করে পুলিশ প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।