চাঁদে জমি কিনে পেলেন দলিল ও নাগরিকত্ব, বুঝে নিলেন বরাদ্দ জায়গাটুকু!

চাঁদে জমি কিনে পেলেন দলিল ও নাগরিকত্ব, বুঝে নিলেন বরাদ্দ জায়গাটুকু!

‘আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, চাঁদের কপালে চাঁদ টিপ দিয়ে যা’ আদর্শলিপির এই ছড়া ছোটবেলায় শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শুধু কি তাই, দূর আকাশে জোছনা বিলানো চাঁদের সঙ্গে কল্পনার কথোপকথনে লেখা হয়েছে শত সহস্র গল্প, গদ্য, উপন্যাস, কবিতাসহ আরও কত কী। তবে এবার আর অধরা থাকছে না চিরচেনা সেই চাঁদ। পৃথিবীতে দেখা মিলেছে এক বিক্রেতার, যিনি ফেরি করে বিক্রি করছেন চাঁদের বিভিন্ন অংশ!

গেলো কয়েকদিন ধরেই চাঁদে জমি কেনার বিষয়টি বেশ চর্চিত হচ্ছে। অনেকে বিষয়টিকে মজা হিসেবেই দেখছেন। কেউ কেউ ভাবছেন এটি চাপাবাজি ছাড়া আর কিছু নয়। তবে এরইমধ্যে বিশ্বের নানা দেশের মানুষ চাঁদে জমি কিনেছেন। সেই তালিকায় যুক্ত হলেন নাট্যকার এবং পরিচালক হিমু আকরাম। তিনি চাঁদে জমি কেনার দলিল হাতে পেয়েছেন। বুঝে নিয়েছেন চাঁদের মানচিত্রে নিজের নামে বরাদ্দ জায়গাটুকু। চাঁদের ‘সি অব মস্কোইন্স’-তে নিজের প্লটটি কিনেছেন এই নাট্যনির্মাতা।

গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করে এই নাট্য নির্মাতা জানিয়েছেন, চাঁদের জমি বিক্রি করা মার্কিন নাগরিক ডেনিস হোপের ‘লুনার অ্যাম্বাসি’ থেকে সম্প্রতি এক একর জমি কিনেছেন তিনি। সেই সাথে নিয়েছেন চাঁদের নাগরিকত্ব।

চাঁদে জমি কেনা প্রসঙ্গে হিমু আকরাম বলেন, ‘এটা এক ধরনের ইলুয়েশন। কল্পনার রাজ্যে নিজের জমি! ভিখারিরো কোনো একদিন ডাকাত হতে ইচ্ছে করে!’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুল মুন দেখার জন্য বছরের পর বছর বহু যায়গায় গিয়েছি। পাহাড় থেকে সমুদ্রে, খোলা মাঠ থেকে বনে! গল্প কবিতা নাটকে চাঁদ নিয়ে কত কত কথা। জোছনার প্রেমে পড়েই আমি চাঁদে জমি কিনেছি। বারান্দায় দাঁড়িয়ে এখন চাঁদের দিকে তাকালে মনে হয় সেখানে আমার এক টুকরো জমি আছে। হয়তো কয়েক হাজার বছর পর আমার জমিতে অন্য কারো ঘর হবে। হয়তো সেখানেও বৃষ্টি হবে। তারাও ভালোবাসবে!’

চাঁদে জমি কেনার জন্য ডেনিস হোপের ‘লুনার অ্যাম্বাসি’ বেশ জনপ্রিয়। জানা গেছে, জমি কেনার পর ক্রেতাকে একটি বিক্রয় চুক্তি, কেনা জমির একটি স্যাটেলাইট ছবি এবং জমিটির ভৌগলিক অবস্থান ও মৌজা-পর্চার মতো আইনি নথিও পাঠিয়ে থাকে সংস্থাটি। এছাড়া কেউ যদি বেশি ব্যয় করতে রাজি থাকে, তাহলে তাদের জন্য চাঁদের সম্পূর্ণ মানচিত্র এবং অন্যান্য তথ্যও সরবরাহ করা হয়।

মার্কিন এই নাগরিক দাবি করে আসছেন, সৌরমণ্ডলের সব গ্রহের মালিক তিনি। ১৯৮০ সাল থেকে শুরু হয়ে গত ৪১ বছর ধরে ৬০ লাখের বেশি ক্রেতার কাছে চাঁদের ৬১ দশমিক ১ কোটি একর জমি বিক্রি করেছে লুনার এম্বাসি। আদৌ চাঁদ বা অন্য কোনও গ্রহে এভাবে জমি কেনা সম্ভব?

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, জাতিসংঘের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ চুক্তি অনুযায়ী, চাঁদে কেউ জমি কিনতে পারে না। তবে কিছু দেশের নাগরিক আইন বা চুক্তির ফাঁকফোকর বের করে চাঁদ এবং অন্যান্য গ্রহ–উপগ্রহে জমি বিক্রির নাম করে পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা কিনছেন, তারা আসলে চাঁদে জমি কিনছেন, না তৃপ্তির ঢেকুর কিনছেন!

সূত্রঃ আর টিভি নিউজ