আ’পত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ছাত্রীর আত্ম হ’ত্যার হুমকিতে মা’মলা নিলেন ওসি!

বরগুনার পাথরঘাটায় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীর জো’রপূর্বক আ’পত্তিকর ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটকে ছড়িয়ে দিয়েছে একই ক্লাসের সহপাঠি নাঈম। ছাত্রী অভিভাকদের অভিযোগ, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় মা’মলা করতে গেলেও ও’সি ভিকটিম ও তার মাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রেখে পরে যোগাযোগ করতে বলেন। বিচারে সহযোগীতা না পাওয়ায় আত্ম হ’ত্যার হুমকি দিয়েছিল ঐ ছাত্রী। এ নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ঐ স্কুল ছাত্রীর মাকে থানায় ডেকে নিয়ে মা’মলা নিয়েছেন পাথরঘাটা থা’নার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও’সি আবুল বাশার।

অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার জানান, ঐ ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নাঈম ও সবুজকে আসামি করে নারী ও শিশু নি’র্যাতন দ’মন আইন সংশোধন ২০২০ এর ১০ তৎসহ ডিজিটাল নি’রাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৯(১)/৩৫ পাথরঘাটা থানায় মা’মলা দায়ের করেছেন (মা’মলা নং -২৭)।

জানা যায়, বখাটে নাঈম তার একই ক্লাসের সহপাঠী ওই মেয়েকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে এক বছর আগে নাঈমের মামা ইউসুফ এর কাছে নালিশ করেও কোনো সমাধান পাননি ভুক্তভোগী পরিবারটি। এরপরে গত বুধবার ঐ ছাত্রী ক্লাস শেষে গেট দিয়ে বের হবার সময় তাকে জড়িয়ে ধরে শ্লী’লতাহানি করে এবং একটি আ’পত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় নাঈম। পরিকল্পিত এই ঘটনার মোবাইল ভিডিও ধারন করে অপর সহপাঠী সবুজ। ঐ ছাত্রীর মা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানালে তিনি বিচার করবেন বলে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। প্রধান শিক্ষক নাঈমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ব্যার্থ হওয়ার হন। পরে শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পাথরঘাটা থা’নায় গিয়ে বিষয়টি ও’সি আবুল বাশারকে জানিয়ে মা’মলা করবেন বলে জানান ঐ ছাত্রী ও তার মা। ওসি দীর্ঘক্ষণ তাদের বসিয়ে রেখে পরে আসতে বলে পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি আবারও মা’মলা করার কথা জানালে ও’সি তার ব্যক্তিগত কার্ড ধরিয়ে দিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলেন বলে জানান ছাত্রীর মা।

অভিযুক্ত নাঈম উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজির খাল গ্রামের সৌদি প্রবাসী সগির খানের ছেলে। সগীর খানের স্ত্রী ছেলে নাঈমকে নিয়ে পৌর শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থা’নার ওসি আবুল বাশার বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি, মা’মলা নেওয়ার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আসামিকে ধরা। এজন্য ওই সময়ে মা’মলা নেওয়া হয়নি। তবে পরে মা’মলা নেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত পু’লিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার জানান, শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে নাঈম ও সবুজ এই দুইজনের নামে মা’মলাটি দায়ের করেছেন। জেলা পু’লিশ সুপারের নির্দেশে আ’সামিদের দ্রুত গ্রে’ফতারের চেষ্টা চলছে।

সূত্রঃ বিডি প্রতিদিন