দাড়ি কামানোয় নিষেধাজ্ঞা তালেবানের

আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশে দাড়ি কাটা এবং সেলুনে গান বাজানোর উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তালেবান। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। গত ১৫ আগস্ট কাবুলসহ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর, উদার নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান। তবে ধীরে ধীরে আগের মতই কঠোর সব নিয়ম-কানুন প্রয়োগ করছে গোষ্ঠীটি।

এবার নতুন নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে সেলুনগুলোতে। হেলমান্দ প্রদেশের তালেবান কর্তৃপক্ষ বলছে, দাড়ি কাটা ইসলামি আইনের পরিপন্থী। নির্দেশনায় বলা হয়েছে দাড়ি বা চুল কাটার ক্ষেত্রে মানতে হবে শরিয়াহ আইন। আর এই নিয়ম কেউ না মানলে তাদের পেতে হবে কঠোর শাস্তি। এমনকি কেউ এ বিষয়ে অভিযোগও করতে পারবেন না বলে নোটিশে জানানো হয়।

শুধু হেলমান্দ নয়, একই ধরণের নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কাবুলে কর্মরত কয়েকজন সেলুনকর্মীও। তারা বলছেন, দাঁড়ি কাটলে তাদের আটকের হুমকি দেয়া হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশের সেলুনগুলোতেও টানিয়ে দেয়া নোটিশে চুল বা দাড়ি কাটার সময়ে শরিয়াহ আইন অনুসরণ করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এতে নিজেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা আফগান সেলুন কর্মীদের।

তালেবানের প্রথম শাসনামল ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে নকশা করে চুল কাটা নিষিদ্ধ করা হয়। সেইসাথে দাড়ি রাখতে উৎসাহ দেয়া হয় পুরুষদের। তবে তালেবানের পতনের পর জনপ্রিয় হয়ে উঠে ক্লিন শেভ এবং নানা স্টাইলে চুল কাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

এছাড়া সেলুনে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করেছে তালেবান। এতে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও তার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও হুমকির মুখে পড়েছে। এর আগে শনিবার হেরাতে বন্দুকযুদ্ধে চার অপহরণকারী নিহত হওয়ার পর তাদের মরদেহ ক্রেনে ঝুলিয়ে রাখে তালেবান। এবারে ক্ষমতা নেয়ার পর আফগানিস্তানে এটাই ছিল প্রথম কঠোরতম কোনো শাস্তির ঘটনা। এসব ঘটনার পর আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগেরবার তালেবান ক্ষমতায় থাকার সময় যে কট্টরপন্থা অবলম্বন করেছিল, সময়ের সাথে তা সবই বহাল থাকবে।

সূত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ