রিজিক কেন বাড়ে-কমে

রিজিক কেন বাড়ে-কমে

গোনাহমুক্ত জীবনের জন্য প্রয়োজন গু’নাহ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। গু’নাহ হয়ে গেলে অবিলম্বে আল্ল­াহর কাছে ক্ষ’মা প্রার্থনা করতে হবে। তবেই আল্ল­াহ বান্দার গোনাহ ক্ষ’মা করে দেবেন।

রিজিক তো সঙ্কীর্ণ হবে না উপরন্তু আল্লাহ তার জন্য সব বরকতের দুয়ার উন্মুক্ত করে দেবেন। রিজিকে প্রশস্ততা দান করবেন। যেভাবে আল্ল­াহ তায়ালা কুরআন পাকে ক্ষ’মা প্রার্থনার ফজিলত ঘোষণা করেছেন, ‘আমি বলেছিÑ তোমর’া তোমা’দের রবের কাছে ক্ষ’মা চাও, তিনি বড়ই ক্ষ’মাশীল।

(তোমর’া তা করলে) তিনি অজস্র ধা’রায় তোমা’দের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। আর তোমা’দেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দিয়ে সাহায্য করবেন এবং তোমা’দের জন্য বাগ-বাগিচা দেবেন আর দেবেন নদী-নালা’।

(সূরা নুহ : ১০-১২) ক্ষ’মা প্রার্থনার দ্বারা আল্লাহ উল্লি­খিত ছয়টি নেয়ামতÑ গোনাহ মাফ, উত্তম রিজিকের জন্য বরকতের বৃষ্টি, অসহায়কে ধন-সম্পদ, নিঃসন্তান ব্যক্তিকে সন্তান-সন্তুতি, সবুজ উদ্যান এবং উপকারি নদী-নালা দান করবেন।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত গোনাহের কাজ ছেড়ে দেয়া। তবেই রিজিকে বরকত লাভ হবে। এ জন্য সব সময় আল্ল­াহর কাছে তাওবাহ-ইসতিগফার করা জরুরি। ছোট বাক্য থেকে সাইয়েদুল ইসতিগফার পর্যন্ত সবগু’লো ইসতিগফার বেশি বেশি পড়ার অভ্যাস রফত করতে হবে। আর তা হলোÑ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’।

অর্থÑ আমি আল্লাহর ক্ষ’মা প্রার্থনা করছি।

নিয়ম : প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসূলুল্ল­াহ সা: এ ইসতিগফারটি তিনবার পড়তেন।’ (মিশকাত)
‘আস্তাগফিরুল্ল­াহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ অর্থ- আমি আল্ল­াহর ক্ষ’মা প্রার্থনা করছি এবং তার দিকেই ফিরে আসছি।

নিয়ম : এ ইসতিগফারটি প্রতিদিন ৭০-১০০ বার পড়া। রাসূলুল্ল­াহ সা: প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তাওবাহ ও ইসতিগফার করতেন। (বুখারি)

‘রাব্বিগ্ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া ইন্নাকা আংতাত তাওয়াবুর রাহিম।’ অর্থ- হে আমা’র প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষ’মা করুন এবং আমা’র তাওবাহ কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তাওবা কবুলকারী করুণাময়।

নিয়ম : রাসূলুল্লাহ সা: মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এই দোয়া ১০০ বার পড়েছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

‘আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ অর্থ- আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষ’মা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।’

নিয়ম : দিনের যেকোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষ’মা প্রার্থনার সময় এভাবে তাওবাহ-ইসতিগফার করা। হাদিসে এসেছেÑ এভাবে তাওবাহ-ইসতিগফার করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষ’মা করে দেবেন, যদিও সে যু’দ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।

(আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত) সাইয়িদুল ইসতেগফার পড়া- আল্লাহু’ম্মা আন্তা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহিদকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগিফরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।’

অর্থ- হে আল্লাহ! তুমিই আমা’র প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমা’রই বান্দাহ, আমি যথাসাধ্য তোমা’র সাথে প্রতিজ্ঞা ও অ’ঙ্গীকারের ওপর আছি।

আমি আমা’র সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমা’র কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমা’র প্রতি তোমা’র যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমা’র কৃত গোনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষ’মা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গোনাহ ক্ষ’মা করতে পারবে না।

নিয়ম : সকালে ও সন্ধ্যায় এ ইসতিগফার করা। ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ ইসতিগফার পড়তে ভুল না করা। কেননা, হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি এ ইসতিগফার সকালে পড়ে আর সন্ধ্যার আগে মা’রা যায় কিংবা সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার আগে মা’রা যায়, তবে সে জান্নাতে যাব’ে। (বুখারি)

আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে গোনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। কৃত গোনাহের জন্য বেশি বেশি তাওবাহ-ইসতিগফার করার তাওফিক দান করুন। তাওবাহ-ইসতিগফারের মাধ্যমে ক্ষ’মা প্রার্থনা করে রিজিকের বরকতসহ কুরআন-সুন্নায় ঘোষিত যাব’তীয় নিয়ামত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড