৫ মাস ধরে ময়দা গো’লা পানি খায় যমজ শি’শু

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতা’লের শি’শু ওয়ার্ডে ভর্তি আট মাসের যমজ শি’শু সাফিয়া ও মা’রিয়া। জন্মের পর তিন মাস তাদের ভাগ্যে কেনা দুধ জুটলেও পরে আর জোটেনি।

এখন পানিতে চালের গুঁড়া মিশিয়ে আবার কখনও পানির সঙ্গে আটা কিংবা ময়দা মিশিয়ে তাদের খেতে দেন মা।

সাফিয়া ও মা’রিয়ার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজে’লার ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে। বাবা আনিসুর রহমান মোটরভ্যানচালক। মা স্বপ্না বেগম মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে সাফিয়া ও মা’রিয়ার মুখে খাবার তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতা’লের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে রয়েছে ওই দুই যজম শি’শু কন্যা।

মা স্বপ্না বেগম জানান, ওদের বয়স এখন আট মাস। আমা’র বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত দুধ কিনে খাইয়েছি তাদের। তারপর থেকে টাকা নেই। তাই চালের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খাইয়েছি কয়েক মাস। এখন ময়দা ও আটা পানিতে গু’লিয়ে খেতে দেই তাদের। এভাবে গত ছয় মাস ধরে খাওয়াচ্ছি।

তিনি বলেন, তিনদিন আগে জ্বরে মুখ, চোখ ও শরীর ফুলে যায় তাদের। এ অবস্থায় হাসপাতা’লে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে ওষধপত্র দিচ্ছে। চিকিৎসক বলেছেন, ঠিকমতো ওষুধ খেলে সুস্থ হয়ে যাবে।

হাসপাতা’লের একই ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর বেডে অ’সুস্থ নাতনিকে ভর্তি করে রেখেছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে যা দেখেছি তাতে মনে হলো এই দুই শি’শুকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাই বেঁচে আছে। যা খাওয়ানো হয় সেটি কোনো শি’শুর খাওয়ার কথা না। কোনো শি’শু এসব খায় কি-না আমা’র জানা নেই। ময়দা গু’লিয়ে, আটা গু’লিয়ে আবার তাদের খেতে দিচ্ছে মা। কিভাবে শি’শু দুটি বেঁচে আছে একমাত্র আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

যমজ দুই শি’শুর বাবা আনিসুর রহমান বলেন, আমি গরিব মানুষ। মোটরভ্যান চালাই। দুর্ঘ’টনায় পড়ে গত ৪০ দিন ধরে ভ্যান চালাতে পারিনি। দেড় মাস আগে আমাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ২০০ গ্রাম দুধ দিয়েছিলেন।

সেই দুধ শি’শুদের খাইয়েছি। অভাবের কারণে তাদের দুধ কিনে দিতে পারি না। মোটরভ্যানটি এখন অকেজো হয়ে গেছে। শি’শু দুটি হাসপাতা’লে ভর্তি। আমি অ’সুস্থ হয়ে বাড়িতে আছি। তাদের মা হাসপাতা’লে। কি করব কিছুই বুঝতে পারছি না।

শি’শু সাফিয়া ও মা’রিয়া চিকিৎসা করছেন সদর হাসপাতা’লের চিকিৎসক অসীম কুমা’র। তিনি বলেন, শি’শু দুটো জন্মের পর থেকে ভালো দুধ বা পুষ্টিকর কোনো খাবার না পাওয়ায় অ’সুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রোটিন কমে গেছে তাদের।

আমিষজাতীয় কোনো খাবার দুই শি’শু পায়নি। শুনেছি ময়দা গু’লিয়ে পানি খাওয়ায়। আবার জেনেছি কখনও কখনও কলাপাতা চিবিয়ে তাদের খাইয়েছে মা। এভাবে অ’পুষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে শি’শু দুটির।

x