সুশান্তকে কী’ খাওয়ানো হতো জানতেন রিয়া

সুশান্তকে কী' খাওয়ানো হতো জানতেন রিয়া

বলিউড তারকা সুশান্তের মৃ’ত্যুর র’হস্য দিন দিন গভীর হচ্ছে। এ মা’মলায় নামিদামি অ’ভিনেতা-অ’ভিনেত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তার বান্ধবী রিয়া ও রিয়ার পরিবারের সদস্যসহ মোট ছয় জনের বি’রুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সুশান্তের বাবা। রিয়াও আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

কিন্তু এবার রিয়ার বি’রুদ্ধে গুরুতর অ’ভিযোগ এনেছেন সুশান্তের ফিটনেস ট্রেনার। সুশান্তের ফিটনেসের বিষয় দেখভাল করতেন ট্রেনার সমীর আহমেদ। একটি ভা’রতীয় টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় গো’পন করে সমীর আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই কথোপকথনে সমীর রিয়ার বি’রুদ্ধে অ’ভিযোগ এনেছেন। রিয়া সুশান্তকে কী’ ওষুধ খাওয়াতো তা নিয়ে প্রশ্ন সমীরের।

ভা’রতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দাবাজার পত্রিকা শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিষয়টি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছর সমীরের তত্ত্বাবধানে শরীরচর্চা করেছেন সুশান্ত। পেশাদার স’ম্পর্কের বাইরে তিনি সুশান্তের ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন। তাঁর দাবি, সুশান্ত কী’ ওষুধ খাবেন, সেটা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতেন রিয়া।

তবে সুপ্রিম কোর্টে রিয়া তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, সুশান্ত অবসাদের শিকার ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদের ওষুধ খাচ্ছিলেন।

কিন্তু ট্রেনার সমীরের দাবি, সুশান্তের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল গত ১ জুন। তার আগে ২৯ মে নিজের মাকে হারিয়েছিলেন সমীর। বিষয়টি জানতে পেরে সুশান্ত তাঁকে ফোন করেছিলেন। ফোনে কথা বলার সময় সুশান্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন বলে দাবি সমীরের।

অন্যদিকে আ’দালতে রিয়া জানিয়েছেন, সুশান্তের সঙ্গে তাঁর লিভ ইন স’ম্পর্ক ছিল। কিন্তু সুশান্তের মৃ’ত্যুর সঙ্গে তাঁর কোনও স’ম্পর্ক নেই।

রিয়ার দাবি, সুশান্ত অবসাদে ভুগছিলেন। এজন্য ওষুধও খাচ্ছিলেন। কিন্তু এই ‘ওষুধ’-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ট্রেনার সমীর।

সমীরের প্রশ্ন, ওষুধ দেওয়ার আগে কি চিকিৎসক সুশান্তের সঙ্গে কথা বলেছিলেন? মানসিক অবসাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক-রোগী কাউন্সেলিং বিশেষ প্রয়োজন। সেটা কি সুশান্তের বেলায় হয়েছিল?

সমীরের দাবি, তার ক্লায়েন্ট কী’ ওষুধ খাচ্ছেন, সেটা একজন ফিটনেস ট্রেনারের জানাটা খুবই জরুরি। সেভাবেই তিনি ফিটনেস রুটিন ঠিক করেন। কিন্তু সুশান্তকে কী’ ওষুধ খাওয়ানো হতো সে বিষয়ে সমীরও কিছুই জানতেন না। বিষয়টি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন রিয়া। একমাত্র রিয়াই জানতেন সুশান্তকে কী’ ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

সুশান্তের বাবার অ’ভিযোগ, সুশান্ত আগে যে বাড়িতে থাকতেন সেখানে ভূত আছে বলে সেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছিলেন রিয়া। সুশান্তের ‘মানসিক অবসাদ’-এর চিকিৎসাও করতেন রিয়ার পরিচিত চিকিৎসক।

সুশান্তের পুরনো পরিচারক ও রাঁধুনি জানিয়েছেন, সুশান্তকে নিজের অঙ্গু’লিহেলনে চালাতে ভালবাসতেন রিয়া। তিনি কী’ ওষুধ খাবেন, সেটা দেখাশোনা করতেন নিজে। এমনকি, সুশান্ত ওষুধ খেতে ভুলে গেলে রিয়া নিজেই ওষুধ তুলে দিতেন তাঁর হাতে।