মেজর সিনহার সঙ্গী সিফাতের মুখে ঘটনার বর্ণনা

টেকনাফে সাবেক মেজর সিনহার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইস’লাম সিফাত। পু’লিশের সঙ্গে সেদিন কী’ ঘটেছিল সেই বর্ণনা দিয়েছেন সিফাত।

রবিবার (০৯ জুলাই) গো জাস্ট নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে সিফাতের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে সে দিন রাতে পাহাড়ে কী’ ঘটেছিল তা বর্ণনা করেছেন সিফাত।

ওই ভিডিওতে দেখে গেছে, সিফাতকে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করছেন, কী’ ঘটে ছিল সেই রাতে?। সিফাতও কা’ন্না জ’ড়িত কণ্ঠে এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।

সিফাতের পুরো বক্তব্যে লিখিত আকারে তুলে ধ’রা হল-

‘রেস্ট হাউস থেকে আম’রা রওয়া দেই বিকেল সাড়ে ৩ থেকে ৪টার দিকে। পরে চেকপোস্টে আমাদের পৌঁছাতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। ওই সময় মেজর সিনহা নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সে’না কর্মক’র্তা পরিচয় দিলে আমাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ওই সময় সে’নাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিলেন তিনি। পরে সেখান থেকে আম’রা পাহাড়ের দিকে যাই। পরে পাহাড় থেকে নামা’র সময় দেখি দুইজন পু’লিশ সদস্য খুবই মা’রমুখী ভাবে আমাদের দিকে আসে। সন্ধ্যার পর হওয়ায় আমাদের চোখের দিকে তারা লাইট মা’রে। এবং আম’রা বলি চোখে লাইট মা’রেন কেন? এখানে আসেন। এবং মেজর সিনহার সামনে এসেই তারা অকথ্য বাসায় গালিগালাজ করে।’

সিফাত বলেন, ‘পরে কোনো প্রতিবাদ না করেই গাড়িতে উঠে আম’রা রওয়ানা দেই। সেখান থেকে আসার সময় প্রথম চেকপোস্টে বিজিবিকে মেজর পরিচয় দিলে আমাদের ছেড়ে দেয়। পরে সেখান থেকে আসার সময় দ্বিতীয় চেকপোস্টে আমাদের আ’ট’কে দেয় পু’লিশ। সিনহার নিজের পরিচয় দেয়ার পরও গাড়ি থেকে নামতে বলে। গাড়ি থেকে নামলেই দুইজন সিনহাকে জেরা করতে থাকে। পরে আরেকজন আসে আবারও জেরা করতে থাকে…”

ভিডিওটিতে সিফাত এ পর্যন্ত বলার পর সেটি শেষ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কী’ ঘটেছিল তা আর উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, টেকনাফে পু’লিশের গু’লিতে সাবেক সে’না কর্মক’র্তা সিনহার মৃ’ত্যুর ঘটনায় সাবেক ওসি প্রদীপ কুমা’র দাশসহ ৯ আ’সামির মধ্যে ৭ জন কারাগারে আছেন। ইতিমধ্যে এ ঘটনায় গ্রে’ফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৯ পু’লিশ সদস্যসহ ২০ জনকে প্রত্যাহার করেছে কর্তৃপক্ষ। ৫ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয় প্রদীপ কুমা’র দাশকে।

এর ঘটনার বিচার চেয়ে টেকনাফ উপজে’লা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আ’দালতে ৯ পু’লিশ সদস্যকে আ’সামি করে মা’মলা করেন তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আ’দালতের বিচারক তামান্না ফারাহ মা’মলা’টি গ্রহণ করেন। তিনি এজাহারটি মা’মলা হিসেবে নথিভুক্ত করে সাতদিনের মধ্যে আ’দালতকে অবহিত করতে টেকনাফ থা’নার ওসিকে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মা’মলা’টি ত’দন্ত করে আ’দালতকে জানানোর জন্য র‌্যা’­ব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মা’মলার আ’সামিরা হলেন- ওসি প্রদীপ ও আইসি লিয়াকত, এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফাকে আ’সামি করা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফে পু’লিশ চেকপোস্টে সিনহাকে গু’লি করা হয়। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভা’র্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্ট্যাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাহেদুল ইস’লাম সিফাত। আর বিশ্ববিদ্যালটির একই বিভাগের ছা’ত্রী শিপ্রা হিমছড়ির একটি রিসোর্টে ছিলেন। সেখানে অ’ভিযান চালিয়ে পু’লিশ তাকে আ’ট’ক করে। পরে রামু থা’নায় শিপ্রার বি’রুদ্ধে মা’দক রাখার অ’ভিযোগে মা’মলা দেয় পু’লিশ। আর সিফাতের বি’রুদ্ধে করা হয় হ’ত্যা ও মা’দক মা’মলা।

জুমবাংলানিউজ/এসআর

x