বিশাল শূন্যতা রেখে চলে গেলেন স্বর্গের পথে: রুনা লায়লা

কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলীর চলে যাওয়াকে সংগীতাঙ্গনের বিশাল শূন্যতা বলে মনে করছেন উপমহাদেশের অন্যতম কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকালে এই মৃ’ত্যু’র খবরটি শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রুনা লায়লা বলেন, ‘অসম্ভব প্রতিভাবান গুণী সংগীত পরিচালক ছিলেন আলাউদ্দিন আলী। তার সুরগুলো মিষ্টি আর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া মতো হতো। তার সুরে আমি অসংখ্য গান গেয়েছি। অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছে সেসব গান। আজ তার চলে যাওয়ার কথা শুনে একটা কথাই মনে হলো, সংগীতের বিশাল শূন্যতা তৈরি করে তিনি চলে গেলেন স্বর্গের পথে।’

রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘আমি জানি তার সৃষ্টি গানগুলোর মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন অ’ন”ন্ত’কা’ল। আমি দোয়া করি তার আত্মার শান্তির জন্য। আমি বিশ্বাস করি, এই সুরের জাদুকরের স্থান হবে জান্নাতে।’
‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম দেখা পাইলাম না’ গানটিকে ধরা হয় রুনা লায়লার ক্যারিয়ারে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কসাই’ ছবির জন্য এই গানটির সুর-সংগীত করেন আলাউদ্দিন আলী। এটি ছিল দুজনের দ্বিতীয় গান।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৯ আগস্ট) বিকাল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে কিংবদন্তি সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী। তার মৃ’ত্যু’র খবরে শোক নেমে আসে দেশের সংগীতাঙ্গনে।

২০১৫ সালের জুন মাসে আলাউদ্দিন আলীর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকে তিনি কয়েক দফায় বিদেশেও চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এরপর থেকে তিনি আর উঠে দাঁড়াতে পারেননি। ফিরতে পারেনি স্বাভাবিক জীবনে, সংগীতে।

আলাউদ্দিন আলী বাংলাদেশের বরেণ্য সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গীতিকার। এ পর্যন্ত ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এরমধ্যে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার পুরস্কৃত হয়ে সংগীত পরিচালক হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। যে রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি।

আলাউদ্দিন আলী ১৯৭৫ সাল থেকে সংগীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’ এবং ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। তার সুর করা গানের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি।

আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একই সঙ্গে সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। বাবা ওস্তাদ জাদব আলী। মায়ের নাম জোহরা খাতুন।

দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলে এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সংগীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্র শিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘদিন।

x